গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : নরসিংদীর পলাশ উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে চলা হাঁড়িধোয়া নদীতে চলছে অবাধে বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী খননের নামে হাঁড়িধোয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। হাঁড়িধোয়া নদীর যেখানেই বালু পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে ৫০-৬০ ফুটের মতো গভীর করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় নদীর একেকটি স্থানে আট থেকে নয় মাস পর্যন্ত মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে।
ফলে ভাঙনঝুঁকিতে পড়েছে নদীর ওপর নির্মিত কয়েকটি সেতু ও রাস্তাঘাট।
এ ছাড়া কৃষিজমি ও ঘরবাড়ি ভাঙনের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে গ্রামবাসী।
হাঁড়িধোয়া জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী হওয়ায় এ নদীসহ নরসিংদীর নদনদীগুলো সচল রাখতে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ৫২৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পুনর্খননের উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এবং এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরপর সেনাবাহিনীর কাছ থেকে সোনালী ড্রেজার নামক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নদীগুলো খননের কাজ নেয়।
হাঁড়িধোয়া নদীর ভেলানগর সেতু থেকে শুরু করে শিবপুর উপজেলার সাধারচর ও পলাশ উপজেলার সীমান্ত দিয়ে চরসিন্দুর ইউনিয়ন হয়ে শীতলক্ষ্যা নদী পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫টি শ্যালো মেশিন বসিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এই বালু নদীর পার্শ্ববর্তী ফসলি জমি নষ্ট করে তাতে ফেলা হচ্ছে। এখান থেকেই এ বালু বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।
সরেজমিন স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীগুলো খনন কাজের প্রথম পর্যায়ে সেনাবাহিনী তদারক করত। তখন নদী খননকাজে কোনো অনিয়ম ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে সেনাসদস্যদের তদারকি কমে যাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে হাঁড়িধোয়া নদী থেকে রাত-দিন চলছে বালু উত্তোলন। এসব বালু পলাশের গজারিয়া ইউনিয়নের একটি প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে অন্যত্র বিক্রি করছেন কিছু অসাধু বালু ব্যবসায়ী। এভাবে চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। প্রায় ৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীর দুই তীরেই রয়েছে ছোট-বড় ১০-১২টি সেতু, স্কুল-কলেজসহ অসংখ্য ছোট-বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও গ্রামাঞ্চল। নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে এসব স্থাপনা ও কৃষিজমি ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে।
ইতোমধ্যে কৃষি জমি ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গজারিয়া ইউনিয়নের দড়িচর গ্রামের আমিনুল ইসলাম খোকা বাদী হয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েকজনের নাম উলেল্গখ করে তাদের বিরুদ্ধে নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
তবে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদুরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, আমি বালু তুলি না। আমি নদী খননের ঠিকাদার শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে ট্রলিপ্রতি ২৫০ টাকা ও ড্রাম ট্রাকপ্রতি ৪০০ টাকা দরে বালু কিনে ব্যবসা করি।
পলাশের চরসিন্দুর ইউনিয়নের শফিউল আলম শাহীন নামে এক ঠিকাদার বলেন, নদী খননকাজ আগে সঠিকভাবেই হচ্ছিল। কিন্তু পরে যে যার মতো করে বিভিন্ন স্থানে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ।
এ বিষয়ে পলাশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম বলেন, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি একাধিকবার অভিযান পারিচালনা করা হয়েছে। অভিযানকালে কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বালু উত্তোলনের অভিযোগে গজারিয়া বাজারের পাশে নদী থেকে শাহ জালাল এন্টারপ্রাইজের শহিদুল ইসলাম ও আবু ছালেহ মো. রায়হান নামে দু’জনকে আটক করা হয়। পরে তারা বালু উত্তোলন না করার শর্তে মুচলেকা দিয়ে ছাড় পায়। বিষয়টি নরসিংদীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জানানো হয়েছে।
পলাশের ইউএনও রুমানা ইয়াসমিন বলেন, বালু তোলার অভিযোগ শুনে এ বিষয়ে এসিল্যান্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: সমকাল