‘বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় প্রেমিকাকে শ্বাসরোধে হত্যা’: পিবিআই

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : প্রেমের সম্পর্ক থেকে একপর্যায়ে প্রেমিকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ায় পোশাক শ্রমিক নাজমা খাতুন (২৫)। পরে বিয়ের জন্য প্রেমিক আল-আমীনকে (২৮) চাপ দিতে থাকে প্রেমিকা। এরপর টালবাহনা করতে থাকে আল-আমীন। আর এতেই প্রেমিকা নাজমার ওপর ক্ষুব্ধ হয় প্রেমিক আল-আমীন। এরপর বিয়ের কথা বলে ডেকে নিয়ে বন্ধুর সহযোগিতায় প্রাইভেটকারের ভেতরে নাজমার গলায় গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ বস্তায় ভরে কালিয়াকৈরের একটি ডোবায় ফেলে দেয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে এভাবেই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় গ্রেপ্তার দুই আসামি। আর এভাবেই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয় পিবিআই’র গাজীপুরের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) গাজীপুর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

নিহত নাজমা খাতুন সিরাজগঞ্জের কাজীপুর থানার চরদোরতা গ্রামের মৃত ওমর আলী শেখের মেয়ে। সে জিরানী এলাকার একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো।

গ্রেপ্তার আল-আমিন হোসেন কালিয়াকৈরের বরইচুটি গ্রামের মোজাম্মেল হক এবং তার বন্ধু বিশাইদ এলাকার খোলার টেকি গ্রামের শাহজাহান মোল্লার ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (২৮)। আল-আমিন পেশায় প্রাইভেটকার চালক ও সাজ্জাদ বাসের টিকেট বিক্রেতা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জানান, গত ৬ ডিসেম্বর সকাল ১০ টার দিকে কালিয়াকৈরের চাঁনপুর এলাকার একটি ডোবার কচুরী পানার পানি থেকে হাত-পা বাধা অজ্ঞাত এক নারীর বস্তাভর্তি লাশ উদ্ধার করে কালিয়াকৈর থানার পুলিশ। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে পিবিআই’র গাজীপুরের সদস্যরা।

পরবর্তীতে এ ঘটনায় ৭ ডিসেম্বর নিহতের ভাই শিপন মিয়া উরফে টিক্কা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কালিয়াকৈর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটি ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে পিবিআই।

পিবিআই আরো জানায়, চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি পিবিআই’র সিডিউল ভূক্ত হওয়ায় পিবিআই’র সদর দপ্তরের এক আদেশে তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর গাজীপুর জেলা শাখা। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে পিবিআই’র পরিদর্শক কাজী মোঃ রফিক আহমেদ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন এবং আসামি গ্রেপ্তারে নিহতের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই’র গাজীপুর জেলা শাখার পরিদর্শক কাজী মোঃ রফিক আহমেদ বলেন, ‘প্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার রাতে প্রথমে নাজমার প্রেমিক আল-আমিন হোসেনকে আশুলিয়াল জিরানী বাজার ও পরে সাজ্জাদ হোসেনকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা মোড়র থেকে গ্রেপ্তার করা হয়’।

‘গ্রেপ্তার আল-আমিন ও সাজ্জাদকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেয়। পরবর্তীতে তাদের আদালতে পাঠানো হলে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে দু’জনেই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়”।

আামিদের জবানবন্দির বরাদ দিয়ে পরিদর্শক কাজী মোঃ রফিক আহমেদ জানায়, ‘নিহত নাজমা খাতুনের সাথে আসামী আল-আমিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এক পর্যায়ে আল-আমিনেকে বিয়ের জন্য চাপ দেয় নাজমা। আর এই জের ধরেই নাজমাকে বিয়ের কথা বলে ডেকে নিয়ে তার বন্ধুর সাজ্জাদের সহযোগিতায় একটি প্রাইভেট কারের ভেতরে নিয়ে নাজমার গলায় গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং তার লাশ বস্তায় ভরে কালিয়াকৈরের একটি ডোবায় ফেলে তারা পালিয়ে যায়’।

হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত প্রাইভেটকার, নাজমার নাকের নাকফুল ও মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে।

পরিদর্শক কাজী মোঃ রফিক আহমেদ আরো জানায়, নিহত নাজমা বিবাহিত এবং তার সাড়ে ৯ বছরের একটি সন্তান আছে। স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ায় সন্তানকে মায়ের কাছে সিরাজগঞ্জ রেখে প্রায় তিন বছর আগে কালিয়াকৈরে এসে ভাড়া বাসায় থেকে পোশাক কারখানায় কাজ করতো। এক বছর আগে আল-আমিনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

আরো জানতে…..

‘ধার নেয়া টাকা ফেরত চাওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ মাটিচাপা দেয়া হয়েছিল’: পিবিআই

মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বেই এটিআই’র শিক্ষার্থী মামুনকে হত্যা করেছিল নিলয়: পিবিআই

কালীগঞ্জের সাইফুল হত্যায় পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন, রহস্য উদঘাটন করলো পিবিআই

কোনাবাড়িতে মাইন উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের ১০ মাস পর ঘটনার রহস্য উন্মোচন করলো পিবিআই

পূবাইলে স্বামী-স্ত্রী হত্যা: রহস্য উন্মোচন করলো পিবিআই, গ্রেপ্তার ১