কালিয়াকৈরে ককটেল নিক্ষেপে তিন পুলিশ আহত, উপজেলা হেফাজতের আমীরসহ গ্রেপ্তার ৩

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কালিয়াকৈরের কালামপুর এলাকায় ধংসাত্বক কার্যক্রম চালাতে পারে এমন সংবাদে অভিযানে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে দুস্কৃতিকারী। এতে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় উপজেলা হেফাজতের আমীর মুফতী মাওলানা এমদাদুল্লাহ এমদাদুল হকসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

রোববার দিবাগত রাত সোয়া ১২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তাররা হলো কালিয়াকৈর উপজেলা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমীর ও ওলামা পরিষদের কালিয়াকৈরের সভাপতি এবং চন্দ্রা দারুল-উলুম মাহমুদ নগর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতী মাওলানা এমদাদুল্লাহ এমদাদুল হক (৫০), একই মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (আরবি প্রভাষক) আশরাফুল ইসলাম (৪০) এবং মোহাম্মদ আলীকে (৪৮)।

গ্রেপ্তার তিনজনই কালিয়াকৈরের ডাইনকিনি এলাকার হাজী সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সব তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ”হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কিছু দুস্কৃতিকারী কালিয়াকৈরের চন্দ্রা টু কালামপুরগামী সড়কের চন্দ্রা এলাকায় একত্রিত হয়ে ধংসাত্বক কার্যক্রম চালাতে পারে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে বলে গোপন সংবাদে জানতে পারে পুলিশ। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর জেলা পুলিশের একটি দল রোববার দিবাগত রাত সোয়া ১২ টার দিকে কালিয়াকৈরের কালামপুর এলাকায় অভিযানে গেলে অতর্কিতভাবে পুলিশকে লক্ষ্য করে ৩৫/৪০ জন দুস্কৃতিকারী কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে বিস্ফোরণ ঘটায়। সে সময় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয় এবং আত্মরক্ষার্থে পুলিশও কয়েক রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে।”

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, ”পরে দুস্কৃতিকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাস্থল থেকে কালিয়াকৈর উপজেলা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমীর মুফতী মাওলানা এমদাদুল্লাহ এমদাদুল হক, আশরাফুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পালিয়ে যাওয়া অন্য দুস্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

”আহত তিন পুলিশ সদস্যকে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কালিয়াকৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোর্শেদ আলী মোল্লা বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় ‘১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩/৪ তৎসহ পেনাল কোড ৩৩২/৩৩৩/৩৫৩/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।”

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিয়াকৈর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) পারভেজ আহম্মেদ সেলিম বলেন, ”জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও কালিয়াকৈর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করেছে। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার তিনজনকে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত রয়েছে।

জেলা হেফজতে ইসলামের যুগ্ম সম্পাদক মুফতি নাসির উদ্দিন খান সাংবাদিকদের জানান, ”মুফতি এমদাদুল হক কালিয়াকৈর হেফাজতে ইসলাম’র উপজেলা কমিটির আমীর ও ওলামা পরিষদের সভাপতি। এছাড়া এমদাদুল হক কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা দারুল উলুম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। তার ছোট ভাই আশরাফ হোসাইন একই প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক এবং বড় ভাই মোহাম্মদ আলী একজন মুদি দোকানী। রোববার রাত ১টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে সাদা পোশাকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে।”