কালীগঞ্জে ভারসাম্যহীন যুবতীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা: আসামি গ্রেপ্তার ও রহস্য উদঘাটন
গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কালীগঞ্জে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবতীকে (২৫) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নদীতে ফেলে হত্যায় জড়িত সোলায়মান আলীকে (২২) গ্রেপ্তার এবং মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান।
গ্রেপ্তার সোলায়মান আলী নীলফামারী জেলার ডিমলা থানার পূর্ব খড়িবাড়ী গ্রামের নুর হোসেনের ছেলে। তিনি কালীগঞ্জের নাগরী এলাকার কেটুনে ঢাকা বাইপাস সড়ক সংলগ্ন অবস্থিত ইউনিলিভারের ওয়ার হাউজে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে চাকুরি করে।
নিহত যুবতী মধ্য নাগরীর পানজোরা এলাকার মৃত তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে তাহমিনা। সে মানসিক ভারসাম্যহীন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জানায়, ২০২০ সালের ২৩ জুন সকাল ৭টার দিকে বাড়ি হতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় তাহমিনা। এর একদিন পর ২৫ জুন সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে নগরভেলা এলাকায় বালু নদীতে ভাসমান থাকা অজ্ঞাত এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে উলুখোলা পুলিশ ক্যাম্পেের সদস্যরা। এরপর অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধারের সংবাদ পেয়ে তাহমিনার বড় বোন মোসাঃ জাহানারা উলুখোলা পুলিশ ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে লাশটি তার ছোট বোনের বলে শনাক্ত করে। তাহমিনা মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে বলে সবাই ধারণা করে। পরে ২৬ জুন কালীগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয় {মামলা নাম্বার-১৭(৬)২০}। অপমৃত্যু মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় কালীগঞ্জ থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তিনি জানতে পারেন তাহমিনাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরবর্তীতে ৩০ অক্টোবর তাহমিনার বড় বোন মোসাঃ জাহানারা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে {মামলা নাম্বার-২৫(১০)২০}।
পিবিআই জানায়, মামলাটি কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ১ মাস তদন্ত করে মামলার রহস্য উদঘাটন এবং আসামি গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হওয়ায় পুলিশ সদর দপ্তর মামলাটি গাজীপুর পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
পরে পিবিআই’র প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের তত্ত্বাবধানে পিবিআই’র গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমানের সার্বিক সহযোগিতায় মামলাটি তদন্ত শুরু করে পিবিআই’র উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই আরো জানায়, তদন্তকালে ঘটনার সাথে জড়িত সোলায়মান আলীকে গত ২ সেপ্টেম্বর তার শ্বশুর বাড়ী নীলফামারী জেলার ডিমলা থানার পূর্ব খড়িবাড়ী গ্রামে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে পাঠানো হলে সে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোলায়মান উল্লেখ করে, ‘সে এবং তার সহযোগীরা উলুখোলা কেটুন ইউনিলিভারের ওয়ার হাউজে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে চাকুরী করতো। তাহমিনা সেখানে চাকুরীর জন্য যায়। সে সময় সোলায়মান তাকে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে ওয়ার হাউজের পার্শ্ববর্তীতে তাদের মেসে নিয়ে যায় এবং সোলায়মানসহ সহযোগীরা তাহমিনাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে তাহমিনাকে বাসায় পৌঁছে দেয়ার কথা বলে সিএনজি ভাড়া করে উলুখোলা ব্রীজে নিয়ে যায় এবং তারা তাহমিনাকে উচু করে ধরে ব্রীজের রেলিং এর উপর দিয়ে বালু নদীর পানিতে ফেলে করে হত্যা করে।
আরো জানতে……….



