প্রতারকদের তথ্য দিতেন বিকাশের টেরিটরি ম্যানেজার তানভীর সিরাজী!

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের মাধ্যমে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা নতুন না। ভুলিয়ে ভালিয়ে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন এক শ্রেণির প্রতারক। কোন কোন ঘটনায় প্রতারকদের সঙ্গে বিকাশ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নামও উঠে আসত। কিন্তু সব সময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যেতেন তাঁরা। তবে এবার সাড়ে চার লাখ টাকার প্রতারণার ঘটনায় এক বিকাশ কর্মকর্তার জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত মঙ্গলবার গাজীপুর থেকে তানভীর সিরাজী ওরফে সিজার নামের (৩৮) বিকাশের সাবেক এই টেরিটরি ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি। সিআইডি কর্মকর্তারা বলছেন, সাবেক এই কর্মকর্তা টাকার বিনিময়ে বিকাশের এজেন্টদের তালিকা সরবরাহ করতেন প্রতারকদের কাছে। আর প্রতিটি তালিকার জন্য তিনি পেতেন ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

বুধবার রাজধানীর মালিবাগের সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান খান।

তিনি বলেন, গত মার্চে টাঙ্গাইলের সখিপুরে বিকাশ এজেন্টের সাড়ে চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি ঘটনায় সখিপুর থানায় মামলা দায়ের করেন এক ভুক্তভোগী। মামলার বাদী রাসেল সখিপুর থানার তক্তারচালা বাজারের মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ ব্যবসায়ী। বিকাশ এজেন্ট নম্বরে প্রতারকেরা ফোন দিয়ে নিজেদের বিকাশ কর্মকর্তা পরিচয়ে দিয়ে বিভিন্ন প্রলোভনে ওটিপি ও পিনকোড নম্বর নিয়ে মোট ৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।

ওই মামলাটির তদন্তে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম শাখা জড়িত থাকার অভিযোগে বিকাশ প্রতারক চক্রের ছয়জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে। তাঁদের মধ্যে তিন জন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারা মতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এবং জবানবন্দিতে তাঁদের সহযোগী হিসেবে বিকাশ প্রতারণার কাজে টেরিটরি ম্যানেজার তানভীর জড়িত আছে বলে স্বীকার করে।

বিশেষ পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান খান বলেন, তানভীর সিরাজী ওরফে সিজার বিকাশে ২০১২ সাল থেকে টেরিটরি ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। তিনি ঢাকা, গাজীপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জে দীর্ঘ নয় বছর কর্মরত ছিলেন। সেসময়ে বিকাশ প্রতারকদের টাকার বিনিময়ে বিকাশ এজেন্ট নম্বর সংবলিত শিট সরবরাহ করতেন। তানভীর একজন বিকাশ কর্মকর্তা হয়ে প্রতারকদের এই কাজে টাকার বিনিময়ে তথ্য সহযোগিতা করার কথা স্বীকার করেছেন।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গ্রাহকের পাশাপাশি নতুন এজেন্টরাও এখন প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। কারণ তারা নতুন এজেন্ট হওয়ায় বিকাশের সবকিছু বুঝে উঠতে পারেন না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে সাইদুর রহমান বলেন, প্রতারণায় জড়িত তানভীরের বিষয়ে বিকাশ কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত জানানো হবে। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষ টাঙ্গাইলের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button