প্রাণ-আরএফএলের বিরুদ্ধে নদীগর্ভ ভরাটের অভিযোগে মামলা!

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : টঙ্গী নদীবন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন বালু নদীর ১২ হাজার ৫০০ বর্গফুট তীরভূমি ও নদীগর্ভ ভরাটের অভিযোগে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। টঙ্গী নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক (বওপ) রেজাউল করিম বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় এ মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বালু নদীর পাতিরা মৌজায় তাদের লে-আউট নকশার আওতাধীন তিনটি সীমানা পিলারের অভ্যন্তরের নদীগর্ভ অবৈধভাবে ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। বালু নদীর পাতিরা মৌজার অন্তর্গত এ স্থানটি নদীর সরকারি সীমানা ২৮, ২৯ ও ৩০ নম্বর পিলারের আওতাধীন। বেশ কয়েকদিন ধরেই এ এলাকার নদীগর্ভ ভরাটে কাজ করছিল দুটি ড্রেজার।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়দের মারফত সংবাদ পেয়ে গত ২৪ অক্টোবর টঙ্গী নদীবন্দর থেকে রাজাখালীর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আহসান হাবিব খান এবং পুলিশ পরিদর্শক রাশিদুল ইসলামসহ বিআইডব্লিউটিএর একটি দল ঘটনাস্থলে আসেন। দলটি প্রাণ গ্রুপ কর্তৃক বালু নদীর ১২ হাজার ৫০০ বর্গফুট জমি ভরাটের বিষয়টি সরেজমিন প্রত্যক্ষ করে তাত্ক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে।

মামলার বাদী সূত্রে জানা যায়, এ অভিযানের সময় নদীগর্ভ ভরাটের দায়ে অভিযুক্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। তাই তত্ক্ষণাৎ কাউকে আটক করা যায়নি। তবে অভিযানে কাউকে আটক করা না গেলেও চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০ জনকে আসামি করে খিলক্ষেত থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করে বিআইডব্লিউটিএ। মামলায় নাম উল্লেখ করা চারজনের দুজন প্রাণ গ্রুপের ম্যানেজার অ্যাডমিন হিসেবে কর্মরত আছেন। তারা হলেন মো. ফয়সাল মাহমুদ ও মো. সরওয়ার জাহান। এছাড়াও যে ড্রেজার দিয়ে নদী ভরাট করা হচ্ছিল, ওই ড্রেজার মালিক মো. জাহেদ আলী এবং মুক্তারের নামও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, নদী দখলদারের ভরাট কার্যক্রমের কারণে নদীপথ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ বিপন্ন এবং নৌ দুর্ঘটনার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়াও সরকার কর্তৃক সীমানা পিলার নির্মাণে বাধা দেয়া ও নির্মিত সীমানা পিলারের লে আউট ক্ষতিগ্রস্ত করায় আসামিরা পেনাল কোডের ১৪৩/১৮৬/২৮৩/৪৩১/৪৩৪/৫০৬/৩৪ ধারা অনুযায়ী অপরাধ করেছে।

বিআইডব্লিউটিএর পক্ষে মামলার বাদী রেজাউল করিম বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আমরা নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে এগোচ্ছে। যারাই নদী ভরাট করে দখল করছে, তাদের বিরুদ্ধেই আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। একই অভিযোগে প্রাণ গ্রুপের বিরুদ্ধেও আমরা মামলা করেছি।

খিলক্ষেত থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোহম্মদ সোহরাব বলেন, মামলার আসামিদের এখনো গ্রেফতার করা যায়নি, তদন্ত চলমান আছে।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, আমার জানামতে মামলাটি পুলিশের কাছে এখন তদন্তাধীন আছে। জায়গাটি শতভাগ আমাদের, রেজিস্ট্রি করে কেনা। বিআইডব্লিউটিএর জায়গা ভরাট করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তার পরও আমরা আইনের প্রতি অবশ্যই শ্রদ্ধাশীল। যেহেতু থানায় কেস হয়েছে, পুলিশ দেখে যেটা মনে করবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

এ সংক্রান্ত আরো জানতে…….

কালীগঞ্জে রেলওয়ের সাড়ে ৩ একর জমি প্রাণ আরএফএল’র দখলে!

কালীগঞ্জে সরকারি হালট দখল: প্রাণ-আরএফএলের ইকোনমিক জোনে অভিযান

কালীগঞ্জে চার কোম্পানির দখলে ‘শীতলক্ষ্যার ১৫ একর জমি’, উদ্ধারের দায়িত্ব নিচ্ছে না কেউ!

 

সূত্র: বণিক বার্তা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button