কালীগঞ্জে স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে ধর্ষণ: ১ মাসেও আসামী গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ!
গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কালীগঞ্জে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীকে (৪২) বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও মিথ্যে বিয়ের নাটক সাজিয়ে প্রতারণার ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) হস্তক্ষেপে মামলা নথিভুক্ত করলেও ১ মাসেও কোন আসামী গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
এর আগে থানায় আইনি সহায়তা না পেয়ে ভুক্তভোগী গত ১২ অক্টোবর গাজীপুরের জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে অভিযোগ দায়ের করলে ঘটনার অনুসন্ধান পূর্বক আইনী ব্যবস্থা নিতে কালীগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন এসপি। এর দুই সপ্তাহ পর ২৫ অক্টোবর মামলা নথিভুক্ত করে থানা পুলিশ। কিন্তু মামলা দায়েরের পর ১ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত কোন আসামীই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
ভুক্তভোগী নারী ও থানা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
অপরদিকে আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় সঠিক বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে ভুক্তভোগী নারী। তবে আসামী গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) কায়সার আহমেদ।
অভিযুক্ত আসামীরা হলো, নরসিংদীর পলাশ উপজেলার মাতিচর এলাকার মৃত আমান উল্লার ছেলে নয়ন মিয়া (৪৫) এবং সহযোগী কালীগঞ্জের তুমুলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সোম এলাকার আব্দুল সাত্তারের মাওলানার ছেলে আবু তাহের কাজী।
নয়ন মিয়া বর্তমানে কালীগঞ্জ পৌরসভার মুনশুরপুর এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থেকে কালীগঞ্জ বাজারে সবজি ও ফলের ব্যবসা পরিচালনা করেন।
ভুক্তভোগী স্বামী পরিত্যক্তা নারী কালীগঞ্জের মুনশুরপুর এলাকার বাসিন্দা।
জানা গেছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ ও মিথ্যে বিয়ের নাটক সাজিয়ে প্রতারণার ঘটনায় স্বামী পরিত্যক্তা ওই নারী গত ৬ অক্টোবর প্রথমে কালীগঞ্জ থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন। প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগী গত ১২ অক্টোবর গাজীপুরের জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে গেলে ঘটনার অনুসন্ধান পূর্বক আইনী ব্যবস্থা নিতে কালীগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন এসপি। পরবর্তীতে ২৫ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১)/৩০ ধারায় ধর্ষণ ও সহায়তার অভিযোগে মামলা নথিভুক্ত করে থানা পুলিশ (মামলা নাম্বার ১২(১০)২১}।
থানায় দায়ের করা এজাহার ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ে করা অভিযোগে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, ১১ বছর পূর্বে ভুক্তভোগীর স্বামী তাকে ডিভোর্স (তালাক) দেন। পরবর্তীতে তিনি পিতার বাড়িতে বসবাস করে একটি এনজিও’তে কাজ নেয়। আনুমানিক ৮ বছর পূর্বে এনজিওতে কাজের সুবাদে অভিযুক্ত নয়ন মিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নয়ন মিয়া ভুক্তভোগীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে (ধর্ষণ) লিপ্ত। পরে বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ব্যবসার কথা বলে নয়ন মিয়া চার-পাঁচ লাখ টাকা নেয়। এরপর ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর তুমুলিয়া ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্টার আবু তাহের কাজীর বাড়িতে নয়ন মিয়ার সঙ্গে ভুক্তভোগী বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পরে তারা দু’জন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাঙ্গাল হাওলা গ্রামের কনক মিয়ার বাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস করতে থাকেন। ওই বাসায় চার-পাঁচ মাস বসবাস করার পর নয়ন মিয়া ভুক্তভোগীকে নিয়ে পূবাইল থানার মিরের বাজার এলাকায় মৃত আরমানের বাড়িতে ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করতে থাকে। সম্প্রতি নয়ন মিয়া ভুক্তভোগীকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, প্রথমে থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর অভিযুক্তদের আটক করে থানায় নিয়ে রাতভর দরবার করে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছিল পুলিশ। এরপর থেকে অভিযুক্তরা আমাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে ও হত্যার হুমকি দিচ্ছে। বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি। পরে গত ১২ অক্টোবর গাজীপুরে গিয়ে এসপি স্যারের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার বিস্তারিত জানাই। সে সময় এসপি স্যার কালীগঞ্জ থানার ওসিকে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। এর দুই সপ্তাহ পর গত ২৫ অক্টোবর মামলা নথিভুক্ত করে থানা পুলিশ। কিন্তু মামলা দায়েরের পর ১ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত কোন আসামীকেই গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। তবে মামলা দায়েরের পরদিন প্রধান আসামীকে গ্রেপ্তার হয়েছে বলে এলাকায় গুজব রটেছিল। এরপর থেকে আসামীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। আসামীরা বিভিন্ন লোকজন দিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে মামলা উঠিয়ে নেয়ার জন্য।
তিনি আরো বলেন, পুলিশ আসামীদের আটক না করে উল্টো গত ১৭ অক্টোবর (রোববার) দিবাগত রাতে আমাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন সোমবার সকালে আমাকে আদালতে পাঠানো হয়। এরপর ওইদিন বিকলে আমি জামিনে মুক্তি পেয়েছি। পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে অভিযোগ দায়ের পর আমাকে আটক করেছিল পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের একটি সিআর মামলায় (৬৯/১৯) গত ১২ অক্টোবর স্বামী পরিত্যক্তা ওই নারীর নামে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থানায় যায়। এরপরও ভুক্তভোগী ওই নারী কয়েকদিন থানায় গেলেও তাকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। পরবর্তীতে পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে অভিযোগ দায়ের পর ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় থানা পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) কায়সার আহমেদ বলেন, ‘’মামলা দায়েরের পর থেকে আসামীরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
সার্বিক বিষয়ে জানতে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিসুর রহমানের ব্যবহৃত সরকারি মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
আরো জানতে………….
এসপি’র নির্দেশের পরও কালীগঞ্জে আইনি সহায়তা পাচ্ছে না ধর্ষণের শিকার স্বামী পরিত্যক্তা নারী!
কালীগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করেও ‘পুলিশী সেবা’ বঞ্চিত ভুক্তভোগীরা!



