‘ভাওয়াল মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র’ থেকে চিত্রনায়ক অভিসহ ২৮ জন উদ্ধার, আটক ৫
গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : গাজীপুর ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে পুনর্বাসন কেন্দ্রের মালিক নাজনিন ফিরোজা বাঁধনসহ ৫ জনকে আটক করেছে র্যাব।
মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের আড়ালে মাদক ব্যবসা, রোগীদের শারীরিক নির্যাতন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় ভর্তি রেখে অর্থ আদায় এবং অনৈতিক কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। এসময় একজন চলচ্চিত্র অভিনেতাসহ ২৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (০৫ জানুয়ারি) দুপুরে মোহাম্মদপুর র্যাব-২ এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- ফিরোজা নাজনিন ওরফে বাঁধন (৩৫), মনোয়ার হোসেন ওরফে সিপন (৩১), মো. রায়হান খান (২০), দিপংকর শাহ ওরফে দিপু (৪৪) ও জাকির হোসেন আনন্দ (২৭)। এদের মধ্যে সিপনের নামে দুটি মামলা রয়েছে।
এসময় সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ৪২০ পিস ইয়াবা, নির্যাতনে ব্যবহৃত লাঠি, স্টিলের পাইপ, হাতকড়া, রশি, গামছা, খেলনা পিস্তল ও কথিত সাংবাদিকের পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, যেভাবে নিরাময় কেন্দ্র পরিচালনা করার কথা, চিকিৎসা দেওয়ার কথা, রোগীদের সেবা করার কথা তার পরিবর্তে সেখানে ব্যাপক অনিয়ম পাওয়া যায়।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, গত ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতির পক্ষ থেকে র্যাব-২ এর কাছে অভিযোগ করা হয় একজন চিত্রনায়ক দীর্ঘ দিন ধরে তাদের কার্যক্রমের অনুপস্থিত রয়েছেন। পরে তারা জানতে পারেন, ওই চিত্রনায়ককে গাজীপুর সদরের ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রে আটক রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে র্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-২ এর একটি আভিযানিক দল মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিসহ ভাওয়াল মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে অভিযান পরিচালনা করে ওই চিত্রনায়কসহ ২৮ জনকে উদ্ধার করে।
র্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া চিত্রনায়কের নাম অভি। তিনি করোনাকালীন চলচ্চিত্রের কার্যক্রম স্থবির থাকায় অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে তিনি কিছুটা মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি নিয়মিত ঘুমের ঔষধ সেবন শুরু করলে তার আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হওয়ায় ২০২১ সালের মার্চ মাসে তার মা চিকিৎসার জন্য তাকে ভাওয়াল মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।
মালিক বাধঁনের কথামত তার মা তাকে সেখানে ভর্তি করান এবং তার চিকিৎসা বাবদ ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেন।পরে প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা চিকিৎসা খরচ বাবদ দেন তিনি। মূলত চিকিৎসার নামে তাকে আটকে রেখে প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা আদায় করাই ছিল প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য।
এ সংক্রান্ত আরো জানতে….
‘ভাওয়াল মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র’ থেকে ইয়াবা উদ্ধার, রোগীদের শারীরিক ও যৌন নির্যাতন, আটক ৫



