সরকারি নির্দেশনা অমান্য: বিনিরাইল মাছের মেলায় উপেক্ষিত ‘স্বাস্থ্যবিধি’
বিশেষ প্রতিনিধি : করোনাভাইরাসের নতুন করে সংক্রমণ বিস্তারের মধ্যে কালীগঞ্জের বিনিরাইলে দিনভর চলা মাছের মেলায় হাজারো মানুষের ভিড়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি।
মেলা আয়োজনে প্রশাসন থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানান কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: আসসাদিকজামান।
পৌষের শেষ দিন শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) উপজেলার বিনিরাইলে দিনভর চলে এই মাছের মেলা।

মেলায় সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ মানুষের মধ্যেই কোনো স্বাস্থ্য সচেতনতা নেই, নেই মাস্কের ব্যবহার। মাছের মেলাকে ঘিরে সেখানে বস্ত্র, হস্ত, চারু-কারু, প্রসাধনী, ফার্নিচার, খেলনা, তৈজসপত্র, মিষ্টি ও কুটির শিল্পের নানা পণ্যের দোকান বসে। হাজারের বেশি দোকানে মাছের পসরা সাজিয়েছেন মাছ বিক্রেতারা।
মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছোট-বড় সাইজের মাছ নিয়ে এসছেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে সামুদ্রিক চিতল, বাঘাইড়, আইড়, বোয়াল, কালিবাউশ, পাবদা, গুলসা, গলদা চিংড়ি, বাইম, কাইকলা, রূপচাঁদা মাছের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে নানা রকমের দেশি মাছ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আয়োজক বলেন, “আমরা বারবার ক্রেতা-বিক্রেতাকে মাইকিং ও প্রচারণা করেও তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। কেউ কারো কথা শোনে না।”
মেলায় কথা হয় শ্রীপুর উপজেলার লিটন দাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, তিনি কালীগঞ্জের জামালপুর গ্রামের জামাই। প্রতিবছরই তিনি এ মেলায় যান। এবার তিনি শ্বশুরবাড়িতে নেওয়ার জন্য সাড়ে ১৯ হাজার টাকার চিতল ও আইড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কিনেছেন। মাছ কিনতে গিয়ে দেখি মেলায় কোথাও কোনো স্বাস্থ্যবিধি নেই, নেই কারো মধ্যে মাস্কের ব্যবহার। তিনি এলাকায় করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: আসসাদিকজামান বলেন, ”বিষয়টি আমার নলেজেই নেই। এ ব্যাপারে কোনো পারমিশনও ছিল না। তবে বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কীভাবে কারা এভাবে মেলার আয়োজন করেছে।”
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনিসুর রহমান বলেন, “মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস বা ওমিক্রনের কোনো ভয় নেই। মাস্ক পরার ব্যাপারে সতর্ক করা হলেও মানুষ তা ব্যবহার করে না। তারা স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আমরা কি করব।”



