গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ফলে কালীগঞ্জে নির্মাণাধীন ব্রিজের গার্ডার ভেঙ্গে ঢালাইর নিচে চাপা পড়ে এক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুন) দুপুর তিনটার দিকে বক্তারপুর-মোহানী সড়কের সুবদিয়া ব্রিজের নির্মাণ কাজ চলাকালীন সময়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ শ্রমিকের নাম লিয়াকত বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর থেকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী বেলাল হোসেন সরকার তার ব্যবহৃত সরকারি মোবাইল ফোন বন্ধ করে রেখেছেন।
ব্রিজটির নির্মাণ কাজ করছে কামাল শরিফ নামে এক ঠিকাদারী ব্যবসায়ীর “এমটিবি/এমএমই” (জিবি) নামে কনস্ট্রাকশন ফার্ম।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে প্রায় ৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দে ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে ২০২১ সালের গোড়ার দিকে। চলতি বছরের আগস্ট মাসে নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। নির্মাণ কাজের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের গাজীপুর শাখা।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছে, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারনে ব্রিজের গার্ডার ভেঙ্গে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রায় তিন বছর আগে নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য পুরনো ব্রিজ ভেঙ্গে ফেলা হয়। এরপর থেকে এলাকার লোকজনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলজিইডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ব্রিজের গার্ডারে ঢালাই চলছিল। সে সময় ব্রিজের উপরে ৬ শ্রমিক এবং নিচে ও আশপাশে আরো ৫-৭ জন শ্রমিক কাজ করছিল। দুপুর থেকেই এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ করে তিনটার দিকে ঢালাইসহ গার্ডার ভেঙ্গে পড়ে। সে সময় শ্রমিকরা লাফালাফি করে ব্রিজ থেকে নামতে পারলেও একজন শ্রমিক ঢালাইয়ের নিচে চাপা পড়ে। খবর পেয়ে বিকেলে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।
বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আকন্দ (ফারুক) বলেন, নির্মাণ কাজ চলাকালীন সময়ে দুপুরে ব্রিজের গার্ডার ভেঙ্গে পড়ে। সে সময় আর ১০-১২ জন শ্রমিক কাজ করছিল। তাদের মধ্যে একজন নিখোঁজ রয়েছে বলে অন্যান্য শ্রমিকরা জানিয়েছে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস ও আনসার সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ তাশারফ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে। নির্মাণ কাজ সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী লিয়াকত নামে এক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে সে ঢালাই নিচে চাপা পড়েছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী বেলাল হোসেন সরকার দুর্ঘটনার পর থেকে তার ব্যবহৃত সরকারি মোবাইল ফোন বন্ধ করে রেখেছেন। তাই এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।