ইউসুফ-জোলেখা কাব্যে লোকজ উপাদান

ইউসুফ-জোলেখা কাব্যে লোকজ উপাদান

ড. শামীমা সুলতানা : মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের এক আলোকোজ্জ্বল ভূ-খণ্ড মুসলমান রচিত রোমান্টিক প্রণয়কাব্য। ধর্মীয় বোধাচ্ছন্ন কাব্যনিদর্শনের পাশে মধ্যযুগের এ মানবীয় প্রণয়-আখ্যান খুব সহজেই আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। স্বর্গভ্রষ্ট দেব-দেবীর আরাধনা নয়, বরং মাটি-পৃথিবীর গন্ধ মাখা মানব-মানবীর হূদয়ানুভূতি এ কাব্যধারার মূল উপজীব্য। মূলত আরবি-ফারসি ক্বচিৎ হিন্দি কাব্যের অনুবাদ হলেও মধ্যযুগের বাংলা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কবিরা এ কাব্যাঙ্গিকটিকে বাঙালি সংস্কৃতির সমন্বয়ে সময়োপযোগী করে তুলেছিলেন। তা না হলে বিদেশী এ আখ্যানগুলো কখনো বাঙালির নিজস্ব সম্পদ হয়ে উঠত না। মধ্যযুগের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীরের ইউসুফ-জোলেখা মধ্যযুগের একটি অন্যতম রোমান্টিক প্রণয়কাব্য। মধ্যযুগের আরো একজন কবি আব্দুল হাকিম (১৭ শতক) একই কাহিনী অবলম্বনে ইউসুফ-জোলেখা কাব্য রচনা করেন। ইউসুফ-জোলেখা কাব্যের উৎস মূলত কোরআনের ‘সুরা ইউসুফ’ অধ্যায়টি। এছাড়া বাইবেলেও ইউসুফ-জোলেখার বর্ণনা পাওয়া যায়। ফারসি কবি ফেরদৌসী ও জামী ইউসুফ-জোলেখা কাহিনী অবলম্বনে কাব্য রচনা করেছেন। কিন্তু শাহ মুহম্মদ সগীর জীবন-ঘনিষ্ঠ লোকজ উপাদান প্রয়োগের মাধ্যমে আখ্যানটিকে জীবন্ত করে তুলেছেন। বাঙালি লোকজ ভাবনার আদলে কবি কাহিনীটিকে বিন্যস্ত করেছেন। ফলে এটি বাংলার অবিচ্ছেদ্য কাব্য-ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে। লোকসংস্কৃতি মূলত এর সংযোগসূত্র। ইউসুফ-জোলেখা কাব্যে ইউসুফ, জোলেখা, বিধুপ্রভা, ইবন আমিন এদের সবার আচার-আচরণ, কথাবার্তা, ভাবনা-চিন্তা, সুখ-দুঃখানুভূতি, পোশাক-পরিচ্ছদ, সংস্কার-বিশ্বাস এক কথায় সামগ্রিক জীবনচর্যায় এবং প্রাকৃতিক দৃশ্য বর্ণনায় বাংলার মাটি ও মানুষের ছায়া পড়েছে। ফলে ইউসুফ-জোলেখা কাব্য প্রকৃত অনুবাদের আচ্ছাদন সরিয়ে মৌলিক সৃষ্টি হয়ে উঠেছে।

কোনো নির্দিষ্ট ভূ-খণ্ডের স্বভাব অনুযায়ী গড়ে ওঠে সংস্কৃতি। বাঙালি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে এ অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক ও নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে। বঙ্গভূমি নদীবহুল অঞ্চল, নদীর ভাঙা-গড়া ও রহস্যময়তা এ অঞ্চলের সমাজ-সংস্কৃতিকে করেছে বৈচিত্র্যময়। নদীর সঙ্গে বাঙালির ভাগ্যও জড়িত। তাই বলা হয় নদীই বাঙালির ভাগ্য বিধাতা। নদীমাতৃক দেশে বাস করে বলেই বাঙালিরা অনেক বেশি প্রকৃতির দয়া-দাক্ষিণ্য ও বিরূপতার ওপর নির্ভরশীল। ফলে অদৃষ্টে বিশ্বাস এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য। প্রকৃতির এই সদর্থক ও নঞর্থক আচরণ এত ব্যাপক যে এর সঙ্গে অধ্যাত্মবোধের সংযোগ আছে বলে মনে করা হয়। এ অধ্যাত্মবোধ তাদের চালিত করে ধর্মবোধের দিকে এবং এর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গি হয়ে যায় ঐশ্বরিক বিশ্বাস। এ ঐশ্বরিক বিশ্বাসই তাদের অদৃষ্টবাদী করে তোলে।

দেশ-কাল-পাত্র ভেদে সংস্কৃতির ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। কোনো বিশেষ অঞ্চলের মানুষ বিশেষ কিছু আচার-অনুষ্ঠান পালন করে যা অন্যদের চেয়ে আলাদা। বিশেষ জনগোষ্ঠীর এ আচার-অনুষ্ঠানকে আমরা লোকসংস্কৃতি বলতে পারি। ‘লোকসংস্কৃতি এক ঐতিহ্যসম্পন্ন ব্যক্তি বা লোকসমাজের অলিখিত মানস ও বস্তুসম্পদ। লোকসংস্কৃতি একটি জনপদের হূদয়কলরব ও সমষ্টির জীবনচক্রে আবর্তিত কালাতিক্রমী জীবনসংগীত ও বাস্তব সামগ্রী।’১ লোকসংস্কৃতির সঙ্গে ঐতিহ্যের বিষয়টিও জড়িত। এটি ঐতিহ্যিক পরম্পরায় যুগ থেকে যুগে প্রবাহিত হয়। ফলে লোকসংস্কৃতি শুধু প্রাচীন সমাজেরই দর্পণ নয়, বর্তমান সময়েরও প্রাণরস। সমালোচকের মতে, ‘লোকসংস্কৃতি সেই কারণে শুধুমাত্র প্রাচীন সমাজের দর্পণই নয় বরং চলতিকালে বস্তু ও মানবসংস্কৃতি সম্পদের প্রাণবন্ত কোষ। লোকসংস্কৃতিকে প্রাণরস জোগান দিচ্ছে বিশেষ দেশের ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক ও জাতিগত ঐতিহ্য। ঐতিহ্যই লোকসংস্কৃতির প্রাণশক্তি আর সমাজবদ্ধ মানুষের অনন্ত সৃজনশীলতাই এর চালিকাশক্তি। লোকসংস্কৃতি একই সঙ্গে দেশজাত আঁচল ধরা, আবার বিশ্বগত ও সবর্জনীন।’২

লোকসংস্কৃতির সৃষ্টিমূলে হয়তো কোনো একক ব্যক্তির ভূমিকা থাকতে পারে, কিন্তু যখন তা ধীরে ধীরে সমষ্টিমনের সমর্থন লাভ করে বৃহত্তর ক্ষেত্রে উপনীত হয় এবং সর্বজনীন হয়ে ওঠে তখনই তা লোকসংস্কৃতি অভিধা অর্জন করে।

লোকসংস্কৃতির বিষয় ও পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত। লোকসংস্কৃতির ‘লোক’ শব্দটি যারা গ্রামে বাস করে এবং অশিক্ষিত তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহূত হলেও তা পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য নয়। লোক নির্ভর করে চরিত্র ও আচরণে, সামাজিক অবস্থান বা বাসস্থানের ভিত্তিতে নয়।

রোমান্টিক প্রণয়কাব্যগুলোর রচনাকাল সাধারণত পনেরো শতক থেকে আঠারো শতক পর্যন্ত বিস্তৃত। বাংলায় তখন মুসলিম রাজত্ব। ১২০৩ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দীন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি তখনকার বাংলার হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিতাড়িত করে বাংলায় সংস্কৃতচর্চা উত্খাত করে বাংলাচর্চার পথ সুগম করেন। বঙ্গে মুসলমান আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ফলে ভাবে, ভাষায় এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় মুসলিম ঐতিহ্য অবাধে প্রবেশ শুরু করে। অবশ্য মুসলিম শাসকরা হিন্দু ও সাংস্কৃতিক ধারাটিকেও বজায় রাখতে এ দেশের সংস্কৃতি ও সাহিত্যসেবীদের সমান উৎসাহিত করেন। মধ্যযুগের প্রণয়কাব্যগুলো যারা রচনা করেছেন তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজা-মন্ত্রীর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছেন। এ ধারার প্রাচীনতম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর। শাহ মুহম্মদ সগীর তার ইউসুফ-জোলেখা কাব্যে গৌড়েশ্বর সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহর (রাজত্বকাল ১৩৭৭ থেকে ১৪১০ খ্রিস্টাব্দ) নাম উল্লেখ করেছেন। এ থেকে মনে হয় তিনি গৌড়েশ্বর সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছিলেন।

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ধারায় রোমান্টিক প্রণয়কাব্যগুলো এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে। মধ্যযুগের কাব্যের ইতিহাসে ধর্মীয় বিষয়বস্তুর আধিপত্য ছিল, কোনো কোনো কাব্যে লৌকিক ও সামাজিক জীবনের ছায়াপাত ঘটলেও দেব-দেবীর কাহিনীর প্রাধান্যে তাতে মানবীয় অনুভূতির প্রকাশ খুব একটা স্পষ্ট হয়ে ওঠেনি। এ শ্রেণীর কাব্যেই প্রথম মানব-মানবীর প্রেমকাহিনী রূপায়িত হয়ে গতানুগতিক সাহিত্যের ধারায় ব্যতিক্রম সৃষ্টি করেছে। প্রণয়কাব্যগুলোয় মানব-মানবীয় প্রেম মুখ্য হলেও আখ্যানভাগ সমকালের জীবন থেকে নেয়া হয়নি, অতীতের কাহিনী, ইতিহাস, ঐতিহ্য থেকে কবিদের তা সংগ্রহ করতে হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে বিবেচ্য, কবিরা আক্ষরিক অনুবাদ না করে ভাবানুবাদের আশ্রয় নিয়েছেন। এক্ষেত্রে তারা যথেষ্ট স্বাধীনতা নিতেও দ্বিধাবোধ করেননি। ফলে এ কাব্যগুলোয় কবিদের নিজস্ব চিন্তাচেতনা, সংস্কার, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটেছে। ইউসুফ-জোলেখা কাব্যে লোকজীবনের বিস্তৃত প্রকাশ না ঘটলেও এখানে লোকজ উপাদানের প্রয়োগ যথেষ্ট লক্ষ করা যায়। এ কাব্যের মূল কাহিনীর সূচনা ঘটে ‘স্বপ্ন-দৃশ্যে’র মধ্য দিয়ে। স্বপ্ন লোকজ উপাদানের একটি অন্যতম অনুষঙ্গ। স্বপ্নকে সুদীর্ঘকাল থেকে মানুষ দৈবের ইঙ্গিত বলে মনে করে এবং অনেক ক্ষেত্রে এটিকে অলঙ্ঘনীয় বলেও মনে করা হয়। এ কাব্যে দেখা যায় জোলেখা স্বপ্নকে সত্যি বলে ধরে নেয় এবং স্বপ্নে দেখা পুরুষের সন্ধান করতে থাকে। জোলেখা স্বপ্নে ইউসুফের দেহকান্তি দেখে মুগ্ধ হয় এবং তাকে পতি হিসেবে বরণ করবে বলে মনস্থির করে। স্বপ্নে তার কাঙ্ক্ষিত পুরুষকে দেখার ফলে তার দেহ-মনে বিস্তর পরিবর্তন আসে—

প্রথম স্বপ্নেত ছিল লজ্জা উপরোধ।

দ্বিতীয় স্বপ্ন দেখি হারাইলা বোধ।।

দিনে দিনে কৃশ তনু খিন কলেবর।

দুর্বলি কুবরি দেহা দগধে অন্তর।।

বরিখেক গোপত বঞ্চিত কামহতা।

অন্তর তাপিত মন বিরহ-জ্বলিতা।।

… … … … … … …

জেহ্ন চান্দ ঘনান্তরে দেখাই লুকায়।

তা দেখিয়া জোলেখায় আপনা হারায়।।৩

ভাগ্যে বিশ্বাস বাঙালি লোকবিশ্বাসেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইউসুফ-জোলেখা কাব্যে বিধিনিষেধ, ভাগ্যে বিশ্বাস, পূর্বজন্মের বিশ্বাস ইত্যাদির বেশকিছু দৃষ্টান্ত লক্ষ করা যায়। জোলেখা তার স্বপ্নপুরুষকে ভেবে ভেবে যখন নিদ্রাহীন রাত অতিবাহিত করে, স্বপ্নে একবার সেই কাঙ্ক্ষিত মুখটি দেখার প্রত্যাশা করে অথচ চোখে ঘুম নেই, তখন সে এ অবস্থাকে তার পূর্বজন্মের পাপের ফল বলে মনে করে—

দোসর বরিখ ধরি নিদ্রায় বঞ্চিত।

পূর্বজন্ম পাপ ফলে মোর হেন রীত।।

নিন্দ্রায় আকুল মন অন্তর্গত শোক।

কিবা মোর সৌভাগ্য দেখাও চান্দ মুখ।।৪

স্বপ্নে জোলেখা জানতে পারে তার কাঙ্ক্ষিত পুরুষটির নাম আজিজ মিছির। তার উদ্দেশ্যে জোলেখা স্বয়ম্বর সভার আয়োজন করে। কিন্তু আজিজ মিছিরের কোনো দূত সেই সভায় উপস্থিত না হওয়ায় জোলেখা নিজেই আজিজ মিছিরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার সিদ্ধান্ত নেয়। তার পিতা তৈমুসরাজ কন্যার এ সিদ্ধান্তে আহত হন এবং এটিকে তার কর্মদোষের ফল বলে অভিহিত করেন—

মোর কর্মদোষে হেন কন্যা উপজিল।

হেন মতি তান গতি বিধাতা রচিল।।৫

আবার আজিজ মিছিরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর যখন জোলেখা দেখে এই পুরুষ তার কাঙ্ক্ষিত পুরুষ নয় তখন আশাহত জোলেখা এটিকে তার পূর্বজন্মের পাপের ফল বলে ধারণা করে—

পূর্ব জন্ম পাপ ফলে বিধাতা বঞ্চিত।

মুঞি হেন ত্রিভুবনে নাহিক দুক্ষিত।।৬

অন্যদিকে ইউসুফকে যখন নিলামে ক্রয় করে অর্থাৎ তার ‘প্রাণের দুর্লভ’কে যখন নাগালের ভেতর ফিরে পায় তখনো এটিকে জোলেখা বিধির নির্বন্ধ বলে আখ্যা দেয়—

মোর মনে ছিল জথ মনুরথ ভব।

বিধি পরসনে পাইলুঁ প্রাণের দুর্লভ।।৭

এছাড়া ইউসুফ-জোলেখা কাব্যে অতিলৌকিক বিশ্বাসের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়, যা বাঙালি লোকবিশ্বাসেরই অঙ্গীভূত। আজিজ মিছিরকে দেখার পর জোলেখার স্বপ্নসাধ ব্যর্থ হলে সে বিলাপ করতে করতে মূর্ছিত হয়ে পড়ে। এ সময় জোলেখা আকাশবাণী শুনতে পায় এবং তার মনস্কামনা পূর্ণ হবে বলে নিশ্চিত হয়—

চৈতন্য হরিল কন্যা নাহি কোন বুদ্ধি।

সঙ্গীগণে খুঁজিয়া ন পাইল কোন শুদ্ধি।।

হইল আকাশবাণী অন্তরীক্ষ গতি।

জলিখা শুনিলা মাত্র অলক্ষিত মতি।।

উঠ উঠ আয় কন্যা তাপিত হূদয়।

তোহ্মার মনের বাঞ্ছা পূরিব নিশ্চয়।।৮

ইউসুফ-জোলেখা কাব্যে বেশ কয়েকটি স্থানে দৈববাণীর উল্লেখ রয়েছে। মিথ্যা অপবাদে মিসরের কারাগারে বন্দি থাকাকালে ইউসুফ অন্তরীক্ষ বাণী শুনতে পায়। ইউসুফ জোলেখাকে গ্রহণ করার আগে অলৌকিক বাণী শুনতে পায়। ইউসুফ যখন জোলেখার আত্মনিবেদনে নিস্পৃহ তখন ফেরেশতা কর্তৃক ঈশ্বরের আজ্ঞা তার কানে ধ্বনিত হয়—

জলিখা তোহ্মার পত্নী জন্ম জন্মান্তর।।

তোহ্মার কারণ হেতু এহি কন্যা বর।

সৃজিয়া রাখিলা প্রভু বহু জত্ন পর।।

আহ্মা অনুমতি তানে করহ গ্রহণ।

এহি কার্য কর সিদ্ধি বিবাহ জতন।।৯

মঙ্গলকাব্যে আমরা দেখি, দেব-দেবী এসে ভক্তকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে তাকে সদর্থক দিকনির্দেশনা দিতেন, তেমনি এ কাব্যে দেখি ফেরেশতা ইউসুফের কাছে এসে তাকে দিকনির্দেশনা দেন। অলৌকিকতা লোককথার একটি উল্লেখযোগ্য মোটিফ। ইউসুফ-জোলেখা কাব্যে এর বেশকিছু দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হয়। শাহাবাল রাজার কন্যা বিধুপ্রভা তার স্বপ্নদৃষ্ট বাঞ্ছিতকে না পেয়ে আত্মাহুতি দিতে উদ্যত হলে আকাশবাণী শুনতে পায়—

ন মরিঅ আএ কন্যা দুক্ষিত হূদয়।

তোহ্মার মানস আহ্মি পূরিব নিশ্চয়।।১০

এ কাব্যে লোককথার নানা উপাদানের সন্ধান মেলে, যেমন—বাঘ, পাখি এবং তিন মাসের শিশুর মুখে মনুষ্যরূপ বাণী। ইউসুফের প্রার্থনায় অন্ধ পিতার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া এবং জোলেখার বার্ধক্য ও অন্ধত্ব থেকে মুক্তি—এতে যথেষ্ট অস্বাভাবিকতা রয়েছে। ইউসুফের রক্তমাখা কাপড় দেখিয়ে যখন তার ভাইয়েরা বলে ইউসুফকে বাঘে হত্যা করেছে তখন ইউসুফের পিতা ইয়াকুব নবী তার পুত্রদের ইউসুফ-হন্তা বাঘটিকে ধরে আনতে বলেন, পুত্রেরা বাধ্য হয়ে বন থেকে এক বাঘ ধরে নিয়ে আসে। ইয়াকুব নবীর সামনে বাঘকে আনার সঙ্গে সঙ্গে বাঘ মানুষের মতো কথা বলতে শুরু করে, ‘বনের পশু বলিল যে, নবী বা নবীবংশের কাহারও মাংস বাঘ খায় না। সেও ইউসুফকে হত্যা করে নাই ।’১১ অন্যদিকে জোলেখা যখন ইউসুফকে অধর্মকার্যে লিপ্ত করতে বল প্রয়োগ করে তখন তার এক সখী পর্দার আড়ালে থেকে তিন মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুকে ‘ঢুলনি’ অর্থাৎ দোলনায় রেখে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছিল। সেই শিশুই ছিল ওই ঘটনার একমাত্র সাক্ষী। কাজেই কারাগারে বন্দি ইউসুফের বিচারের সময় সাক্ষী হিসেবে এই দুগ্ধপোষ্য তিন মাসের শিশু অনেক জ্ঞানের কথা বলে—

কহিতে লাগিল শিশু আজিজ সম্বোধি।

শুনহ আজিজ তুহ্মি কেহ্নে হেন বুদ্ধি ।।

এহি কার্য জুক্ত নহে ইছুফ সুমতি।

সর্বথায় ন করিঅ তাহান দুর্গতি।।

… … … …

জার পৃষ্ঠগত বস্ত্র বিদার প্রমাণ।

সেহি সত্যবাদী ধর্মশীল অনুমান।।১২

গন্ধর্বরাজ-কুমারী বিধুপ্রভার এক শুকপক্ষী ছিল, যার নাম ‘সুধীর ললিত’। এই পক্ষী ‘বহুল পড়িছে শাস্ত্র জানে তত্ত্বসার’। পক্ষীটি দিগভ্রান্ত আজিজের সম্মুখে এসে তাকে প্রণাম করে। আজিজ মিছির ওই পক্ষীকে বলে যে সৈন্য-সামন্তসহ তার ভ্রাতা ইবন আমিন ‘সুবর্ণ পুরী’তে অবস্থান করছে, অথচ সে পুরীর সন্ধান সে জানে না। তখন পক্ষীটি ‘সুবর্ণ পুরী’র উদ্দেশ তাকে জানিয়ে দেয়। তখন সুবর্ণ পুরী হতে ইবন আমিনকে নিয়ে আসার জন্য বিধুপ্রভা তার শুকপক্ষী ‘ললিত সুধীর’কে পাঠিয়ে দিতে পরামর্শ দেয়। তার পরামর্শ অনুসারে—

নৃপতি লেখিল পত্র ভাই সন্নিধানে।

পাত্রগণ প্রতি পত্র লেখে জনে জনে।।১৩

পক্ষী যখন সুবর্ণ পুরীতে পত্র নিয়ে উপস্থিত হয়, তখন নিরুদ্দিষ্ট আজিজ মিছিরের খোঁজাখুঁজিতে তার পাত্র-মিত্র, সৈন্য-সামন্ত, ভ্রাতা ইবন আমিন সবাই ব্যস্ত ছিল। পক্ষীর পত্র দেখে খবরের প্রত্যাশায় ‘সব পাত্রগণ’ বলে ওঠে, ‘পত্র দেয় পক্ষীরাজ এড়হ ভূমিত’। কিন্তু কাউকে চঞ্চুস্থ পত্র না দিয়ে, তার মুখে মনুষ্যস্বরূপ বাণী মূর্ত হয়ে ওঠে—

পক্ষী বোলে ইবন আমিন কার নাম।

সেহি আসি পত্র মোর নেউক এহি ঠাম।।১৪

পক্ষীর মুখে এ কথা শুনে ইবন আমিন তার মুখ থেকে পত্র নিয়ে দেখে যে এটি আজিজ মিছিরের পত্র। পত্র পাঠ করে পাত্র-মিত্র-ভ্রাতা সবাই আশ্বস্ত হয়, শুকপক্ষী ইবন আমিনকে বলে—

শাহাবাল নামে রাজা গন্ধর্বের পতি।

তান কন্যা বিধুপ্রভা রূপেত পার্বতী।।

স্বপনেত দেখি সুরূপ মনুহর।

ইবন আমিন মোর প্রাণের দোসর।।১৫

শুকপক্ষীর মুখে এ কথা শুনে এক বিস্মৃতপ্রায় অতীত স্বপ্নের কথা ইবন আমিনের মন পড়ে যায়। বহুদিন আগে স্বপ্নে দেখে এক গন্ধর্বসুতাকে সে প্রাণপ্রিয়া হিসেবে বরণ করেছিল। সে বুঝতে পারে যে এ সেই গন্ধর্ব-নন্দিনী যাকে সে স্বপ্নে জীবনসঙ্গীরূপে গ্রহণ করেছিল। তখন তার হূদয়ে সুপ্ত প্রেম ‘বাত্যাবিক্ষুব্ধ বহ্নি’র মতো জ্বলে ওঠে। ধৈর্যধারণ করতে অসমর্থ হয়ে শুকপক্ষীকে আরজি জানায়—

সুধীর ললিত তোর পড়ম চরণ।

শীঘ্র করি কন্যা সহ্মে করাঅ মিলন।।১৬

অতঃপর দ্রুত কাঙ্ক্ষিত মনোবাসনা বাস্তবায়নের জন্য শুকপক্ষী মন্ত্রবলে ইবন আমিনকে ‘খগচর’ বানিয়ে দেয়—

সেহি মন্ত্র প্রভাবে হৈবা খগচর।

অবিলম্বে জাইবা তুহ্মি কুমারী গোচর।।১৭

এই মন্ত্র ‘গন্ধর্ব-মহামন্ত্র’ নামে পরিচিত। এই ‘গন্ধর্ব-মহামন্ত্র’ বলে ইবন আমিন পক্ষীর মতো নভোচারী হয়ে অল্পক্ষণের মধ্যেই মধুপুর চলে যায়। সেখানে তার ভাই ইউসুফের সঙ্গে পুনর্মিলন ঘটে। স্বপ্নে দৃষ্ট প্রাণেশ্বরীর সাক্ষাৎ মেলে।

নানা রকম তুকতাক বা মন্ত্র-তন্ত্র লোকবিশ্বাস কিংবা লোকসংস্কারের অন্তর্ভুক্ত। ইউসুফ-জোলেখা কাব্যে এর বেশকিছু উদাহরণ মেলে। এ কাব্যে অনেক অলৌকিক বা অপ্রাকৃত ঘটনা এসেছে, যেমন—স্বপ্ন, অন্তরীক্ষ বাণী, পশু-পাখি বা দুগ্ধপোষ্য শিশুর মুখে মানববাণী ইত্যাদি যা লোকজ-উপাদানেরই অনুষঙ্গ। এ প্রসঙ্গে সমালোচকের মন্তব্য, ‘এসব অপ্রাকৃত ঘটনা চরিত্রগুলোর মনের কোনো বিকার নয়, কবির নিজেরই রোমান্সসুলভ খেয়ালি কল্পনা। এতে কাহিনীর বাস্তব রস তরল হয়ে গেছে। বাঘ ও দুগ্ধপোষ্য শিশুর মুখে ভাষা দিয়ে সাক্ষী মানার ঘটনা সম্পূর্ণ কাল্পনিক। ইউসুফের প্রার্থনায় অন্ধ পিতা ও জোলেখার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার মধ্যেও যথেষ্ট অস্বাভাবিকতার অবকাশ আছে। বিধুপ্রভার সমস্ত কাহিনী রূপকথাধর্মী। বিধুপ্রভার শুক মন্ত্রসিদ্ধ পাখি। তার মন্ত্রগুণে ইবন আমিন খগচরে রূপান্তরিত হয়ে বিধুপ্রভার রাজ্যে গমন করেন। এতে বাস্তবের লেশমাত্র নেই। এসব কাহিনী ও চরিত্র কবির খেয়ালি মনের স্বপ্নারতি ছাড়া আর কিছুই নয়।”১৮

ইউসুফ-জোলেখা কাব্যে বিবাহ-সংক্রান্ত বেশকিছু আচার-অনুষ্ঠানের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। আকাশ থেকে ফেরেশতা অবতরণ করে যখন ইউসুফকে জানান, জোলেখা ইউসুফের ধর্মপত্নী এবং সে যেন তাকে বিয়ে করে। তখন ইউসুফ মনস্থির করে জোলেখাকে তার বিয়ে করতে হবে। কারণ এটি খোদা তাআলার হুকুম। ইউসুফ ‘অন্তরীক্ষ বাণী’ লাভ করে পাত্র-মিত্রকে ডেকে শুভ পরিণয়ের আয়োজন করতে আদেশ দেয়। অতঃপর বিয়ের যথারীতি আয়োজন চলে—

জথ বাদ্য ভাণ্ড আছে সর্বরাজ্য দেশ।

পঞ্চ শব্দে বাদ্য বাজে পূরিয়া বিশেষ।।

ঢাক ঢোল দণ্ডী কাঁসী দুন্দুভি নিশান।

মন্দিরা মাদল ভাল তবল বিষাণ।।

দোসরি মোহরি বাজে মৃদঙ্গ বহুল।

শঙ্খনাদ সিঙ্গা ভেরী বাজএ তুম্বুল।।

জয়তুর সর্মণ্ডলা জন্ত্র তন্ত্র পুর।

নৃত্যগীতে নৃত্যক নাচএ জেহ্ন সুর।।

… …. … ….

সুরপুরী জিনিয়া আজিজ পুরী সাজ।

বহুল নৃপতি আসি ভারিল সমাজ।।১৯

অর্থাৎ আমরা এখানে দেখি বিয়ে আনন্দ-উৎসব উপলক্ষে নানা রকম লোকনৃত্য ও লোকবাজনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিয়ে উপলক্ষে মঙ্গলগীতের কদর রয়েছে। সাধারণত বিয়ে অনুষ্ঠানে সধবা নারী বা যুবতীরা একত্রিত হয়ে যে গান গায় তাকে ‘মঙ্গলগীত’ বলে। আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ্য করে তোলার জন্য এবং নবদম্পতির মঙ্গল কামনায় এই মঙ্গলগীত গাওয়া হয়। ইউসুফ-জোলেখার বিয়ে উপলক্ষে মঙ্গলগীত আচারটি পালিত হতে দেখি—

আজিজ মিছির বরে জলিখাক বিভা করে

এক পাটে দোহো বসিলেন্ত।

জুবক জুবতী রঙ্গে কনক রতন সঙ্গে

সুরচিত মঙ্গলা গাহেন্ত।।২০

অন্যদিকে ইবন আমিন বিধুপ্রভাকে বিয়ে করে মিসরে উপস্থিত হলে জোলেখা নানা লোকাচারের মধ্য দিয়ে নববধূকে বরণ করে নেয়।

লোক-ঐতিহ্যের অন্যতম সম্পদ প্রবাদ-প্রবচন। প্রবাদ-প্রবচন একটি জাতির সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতার ফসল। এগুলো কোনো বিশেষ ব্যক্তির সৃষ্টি নয়। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে উঠে আসা এ প্রবাদ-প্রবচনগুলোয় আছে অভিজ্ঞতার নির্যাস। জীবন-চিত্রায়ণের স্বাভাবিকতায় ইউসুফ-জোলেখা কাব্যে বেশকিছু প্রবাদ-প্রবচন ব্যবহূত হয়েছে। যেমন—

১. এহি কথা ভাই সবে সকল শুনিল।

বিধির নিবন্ধ কেহ খণ্ডাইতে নারিল।।২১

২. শিষ্টজন কদাচিত দুষ্টু নাহি হএ।

কৃষ্ণ কালি দাগ ন জায়ন্তি শত ধোএ।।২২

বাংলা রোমান্টিক প্রণয়-কাব্যগুলো কোনোটিই বাঙালির ঘরের নয়, তা বাইরে থেকে সংগ্রহ করে বাঙালি উপাদানে সাজিয়ে বাংলা কাব্যে রূপদান করা হয়েছে। বাংলা প্রণয়-কাব্যের কবিরা আক্ষরিক অনুবাদ নয়, ভাবানুবাদের আদর্শকে অনুসরণ করেছেন। এক্ষেত্রে তারা যথেষ্ট স্বাধীনতা অবলম্বন করেছেন। ফলে এই কাব্যগুলোতে কবিদের নিজস্ব চিন্তা-চেতনা, বিশ্বাস-সংস্কার ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটেছে। ইউসুফ-জোলেখা কাব্যের চরিত্র-চিত্রণ, কাহিনী বর্ণনা, ঘটনাধারা উপস্থাপন প্রভৃতি ক্ষেত্রে যে সফলতা দেখিয়েছেন, তার মূলে অন্যান্য উপাদানের মধ্যে লোক-উপাদানের প্রয়োগ অন্যতম। অতীতের লোক-ঐতিহ্যের ভাণ্ডার থেকে সাধারণ লোকের মুখে মুখে প্রচলিত এসব কাব্যোপাদান স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করে গড়ে তুলেছেন এক দুঃসাহসী ও অসামান্য প্রেমকাহিনী। কবির সৃষ্টিতে তাদের ব্যক্তিজীবন অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটে। যে কবি যে অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন বা বাস করেন সেই কবির সৃষ্টিতে সে অঞ্চলেরই সামাজিক প্রথা তথা তত্কালীন সমাজে প্রচলিত আচার, বিশ্বাস বা সংস্কারের একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি পাওয়া যায়। ইউসুফ-জোলেখা ও ইবন আমিন-বিধুপ্রভার বিয়েতে পালিত নানা আচার-অনুষ্ঠান আমাদের সে কথাই মনে করিয়ে দেয়। শাহ মুহম্মদ সগীর পারস্যের কবি ফেরদৌসী তুসী, কোরআনের ‘সুরা ইউসুফ’কে সামনে রেখে তার কাব্য রচনা করলেও তিনি যথেষ্ট মৌলিকতা দেখিয়েছেন। কাব্যটিতে বিদেশী আবহ নেই বললেই চলে, বরং মনে হয় ইউসুফ-জোলেখা কাব্যটি রচনা করতে গিয়ে শাহ মুহম্মদ সগীর দেশীয় ঐতিহ্যকে কোনোভাবেই বিস্মৃত হননি।

তথ্যসূত্র

১. দুলাল চৌধুরী (সম্পা.), বাংলার লোকসংস্কৃতির বিশ্বকোষ, আকাদেমি অব ফোকলোর, কলকাতা,

২০০৪, পৃ. ২২

২. পূর্বোক্ত, পৃ. ২৩

৩. মুহম্মদ এনামুল হক (সম্পা.), শাহ মুহম্মদ সগীর, ইউসুফ-জোলেখা, দ্বিতীয় সংস্করণ, তৃতীয় মুদ্রণ, মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা, ১৯৯৯, পৃ. ১৩১-১৩২

৪. পূর্বোক্ত, পৃ. ১৩২

৫. পূর্বোক্ত, পৃ. ১৩৬

৬. পূর্বোক্ত, পৃ. ১৫০

৭. পূর্বোক্ত, পৃ. ১৮২

৮. পূর্বোক্ত, পৃ. ১৫২-১৫৩

৯. পূর্বোক্ত, পৃ. ২৪৫-২৪৬

১০. পূর্বোক্ত, পৃ. ২৯৪

১১. পূর্বোক্ত, পৃ. ৭৭

১২. পূর্বোক্ত, পৃ. ২১৫

১৩. পূর্বোক্ত, পৃ. ২৯৭

১৪. পূর্বোক্ত, পৃ. ২৯৮

১৫. পূর্বোক্ত, পৃ. ২৯

১৬. পূর্বোক্ত, পৃ. ২

১৭. পূর্বোক্ত, পৃ. ২৯৮

১৮. ওয়াকিল আহমদ, বাংলা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান, দ্বিতীয় মুদ্রণ, খান ব্রাদার্স এ্যান্ড কোম্পানি, ঢাকা, ১৯৭৪, পৃ. ১৭৯

১৯. শাহ মুহম্মদ সগীর, ইউসুফ-জোলেখা, পূর্বোক্ত, পৃ. ২৪৮-২৪৭

২০. পূর্বোক্ত, পৃ. ২৪৯

২১. শাহ মুহম্মদ সগীর, ইউসুফ-জোলেখা, পূর্বোক্ত, পৃ. ১৬২

২২. পূর্বোক্ত, পৃ. ২২২

ড. শামীমা সুলতানা: চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়