নিজস্ব সংবাদদাতা : কালীগঞ্জে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের লক্ষ্য করে ‘ককটেল বিষ্ফোরণ’ করা হয়েছে এমন অভিযোগে বিএনপির ১৬ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ৯০ জনের বিরুদ্ধে বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেছে যুবলীগ নেতা রেজাউর রহমান আশরাফি খোকন (৪৩)।
মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে এ মামলা দায়ের হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খন্দকার সোহেল রানা।
তবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠাতব্য গণসমাবেশে অংশ নেয়া ঠেকাতে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী একযোগে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দেয়ার উৎসবে মেতেছে।
মামলার বাদী কালীগঞ্জ পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রহমান আশরাফি খোকন। তিনি তুমুলিয়ার মৃত মতিউর রহমান আশরাফীর ছেলে। মামলা নাম্বার-২২ (১১) ২২।
মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলো, তুমুলিয়া এলাকার নোয়াব আলীর ছেলে নাদিরুল ইসলাম শাহিন (৪৫), মৃত ওয়াজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে রফিকুল মোল্লা (৪৫), মোকসেদের ছেলে মনির শেখ (৫০), দুর্বাটি এলাকার তমির ছেলে রিপন (৪৮), মোসলেহ উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে রায়হান শরীফ (৩২), খাগড়ার চর এলাকার তমিজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে তোফাজ্জল হোসেন মোফা (৪২), বাঙ্গাল হাওলা এলাকার মৃত আশরাফি আনোয়ারের ছেলে খোরশেদ আলম কাজল (৫৬), তুমুলিয়া এলাকার হামিদ শেখার ছেলে শামীম শেখ (৩৮), চৈতরপাড়া এলাকার মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মোক্তার হোসেন (৪৫), দুর্বাটি এলাকার নজরুলের ছেলে মাজহারুল ইসলাম বিপ্লব (৩০), বালীগাঁও এলাকার হিমেল (২৫), মুনসুরপুর এলাকার হাসিবুল ইসলাম শান্ত (২৫), আমজাদের ছেলে সৈকত (২৫), মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে শওকত আকবর (৪২), মৃত সামসুদ্দিনের ছেলে রকমান (৩৬), চৈতরপাড়া এলাকার মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে লাল মিয়া (৫০)। অভিযুক্তরা সকলেই স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ নভেম্বর দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে বাদী রেজাউর রহমান আশরাফি খোকন, যুবলীগ নেতা আরমান হোসেন রাজ (৪২), ফারুক শেখ (৩৮) এবং ছাত্রলীগ নেতা এম আই লিকন (২৫) ও আবু তাহের (২২) কালীগঞ্জ বাজার থেকে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখে ফেরার পথে কালীগঞ্জ বাইপাস মোড় (ভাদার্ত্তী) এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্তরাসহ অজ্ঞাত আরো ৮০/৯০ জন মিলে তাদের লক্ষ্য করেককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এছাড়াও সে সময় অভিযুক্তরা তাদের এলোপাথারী মারধর করে। পরে স্থানীয় পথচারীরা এগিয়ে আসলে আসামিরা পালিয়ে যায়। সে সময় তাৎক্ষনিক কালীগঞ্জ থানায় ঘটনা জানানো হয়। পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থলে থেকে দুইটি অবিস্ফোরিত ককটেল ও বিষ্ফোরণ হয়েছে এমন একটি ককটেলের অংশ বিশেষ উদ্ধার করে।
মামলায় আসামি করা হয়েছে এমন কয়েকজন (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশ। তাই ওই সমাবেশে যাতে নেতা-কর্মীরা অংশ নিতে পারে এজন্যই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী একযোগে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দেয়ায উৎসবে মেতেছে। কালীগঞ্জে সাজানো এ মামলার নিন্দা জানাচ্ছি আমরা।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খন্দকার সোহেল রানা বলেন, এখনো পর্যন্ত কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।