কালীগঞ্জে ঘরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, পাঁচ মাস ধরে নিজের মেয়েকেই ধর্ষণ: কারাগারে বাবা!

নিজস্ব সংবাদদাতা : প্রায় সাত মাস আগে সৌদি থেকে দেশে ফেরেন কালীগঞ্জের ভাইয়াসূতি এলাকার সুজন চন্দ্র দাস (৩৮)। এর কয়েকদিন পর অন্তঃসত্ত্বা হয় তার স্ত্রী। এরপর তার কু-নজর পড়ে দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া নিজের মেয়ের (১৫) দিকে। হঠাৎ একদিন স্ত্রী বাড়ির বাহিরে গেলে মেয়েকে নিজের শয়ন কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সুজন। বিষয়টি গোপন রাখতে মেয়েকে ভয়ভীতি দেখায় সুজন। পরবর্তীতে পাঁচ মাস ধরে নিয়মিত সে তার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করছে। একপর্যায়ে মেয়ে বিষয়টি মাকে জানায়। সে সময় নিজের ও মেয়ের সম্মানের ভয়ে ঘটনা প্রকাশ না করে সুজনকে বুঝানোর চেষ্টা চালায় তারা দু’জন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে সুজন।

সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ দিবাগত রাত ৩টার দিকে স্ত্রী ঘুমন্ত থাকা অবস্থায় মেয়েকে পুনরায় জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সুজন। সে সময় মেয়ের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

পরবর্তীতে ২৬ মার্চ (রোববার) মেয়ের মা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করে {মামলা নম্বর ১৭(৩)২৩}।‌ এরপর সুজনকে খবর দিয়ে থানায় ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সোমবার (২৭ মার্চ) সকালে সুজনকে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

গ্রেপ্তার সুজন চন্দ্র দাস তুমুলিয়া ইউনিয়নের ভাইয়াসূতি এলাকার পরিমল চন্দ্র দাসের ছেলে। সে দীর্ঘদিন সৌদি আরবে চাকরি করে সম্প্রতি দেশে ফিরেছে।

ভুক্তভোগী মেয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

মামলার এজাহার, পুলিশ ও ভুক্তভোগীর স্বজনরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সত্যতা নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার সুজন চন্দ্র দাসকে সোমবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অপরদিকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুক্তভোগীর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আদালত ভুক্তভোগীর জবানবন্দি রেকর্ড করছেন। পরে তাকে তার মায়ের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button