গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : মুন্সিগঞ্জে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
তখন কাজে যাওয়ার পথে দুইজন নির্মাণ শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। তাদের বয়স ২২ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। এদিকে ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৭ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল। তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পর্যবেক্ষণ করে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা সংবাদ মাধ্যমকে জানায়, রোববার সকালে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী মুন্সিগঞ্জ শহরের সুপার মার্কেট ও কৃষি ব্যাংক মোড় এলাকায় জড়ো হতে থাকে আন্দোলনকারীরা।
পরে সকাল ১০ টার দিকে পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আন্দোলনকারীদের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে সুপার মার্কেট থেকে কৃষি ব্যাংক এলাকাজুড়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
আন্দোলনকারীরা মুন্সিগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে হামলা করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। এখনো শহরজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের একদফা দাবি ঘোষণা করে আজ থেকে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনটির সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই ঘোষণা দেন।
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আজ থেকেই রাজপথে অবস্থান নেওয়া এবং পুরো আগস্ট জুড়ে রাজপথে অবস্থান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।