কালীগঞ্জে বিএনপি নেতাসহ ১২ জনের নামে মামলা

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতাসহ ১২ জনের নামে মামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা : কালীগঞ্জে বাড়িতে লুটপাটের পর এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ, মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে বিএনপি এক নেতাসহ ১২ জনের নামে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরাও বিএনপি সমর্থিত।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) বিকেলে কালীগঞ্জ থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী কাপাইশ এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা কবির মোড়লের ছেলে এনামুল মোড়ল (৪২)। তিনি দালান বাজারের একজন মাছ ব্যবসায়ী।

আসামিরা হলো, কাপাইশ এলাকার রশিদের শেখ ছেলে মোঃ নুরচাঁন (৩২), রুস্তম দেওয়ানের ছেলে তুহিন দেওয়ান (২৪), আজাহার দর্জির ছেলে জায়েদ দর্জি (২০), চুপাইর এলকার দুলাল শেখের ছেলে জায়েদুল শেখ (৩৫),  ফারুক খানের ছেলে জহিরুল খান (৩৩), আনিস খানের ছেলে নাদিম খান (২৮), জয়নাল খানের ছেলে জসিম খান (২২), রহিম সরকারের ছেলে নুরা সরকার (৩৬), বাগদী এলাকার মৃত করিম শেখের ছেলে সোহেল (৩৭), হানিফ শেখের ছেলে অলিউল্লাহ শেখ (২৬), মিজান শেখের ছেলে ইমন শেখ (২০) এবং মৃত হোসেন আলীর ছেলে মানসুর শেখ (৪৮)।

তাদের মধ্যে মানসুর শেখ জামালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। অন্যরাও বিএনপি সমর্থিত।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ৬ মার্চ দুপুর ২টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এনামুল মোড়লের বাড়িতে যায়। সে সময় এনামুল বাড়ির বাইরে ছিলেন। অভিযুক্তরা তার স্ত্রী নুরজাহান বেগমকে জিম্মি করে বাড়িতে লুটপাট চালায়। তারা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা লুট করে এবং বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি করে। এ সময় তারা এনামুলকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে, ৯ মার্চ সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টায় দালান বাজার মাছের আড়ত থেকে অভিযুক্তরা আরও ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির সহায়তায় এনামুলকে মারধর করে অপহরণ করে সোহেলের বাড়িতে জিম্মি করে রাখে। সেখানে তাকে আবারও মারধর করা হয় এবং বিবস্ত্র করে মোবাইলে ছবি ধারণ করা হয়। একপর্যায়ে, এনামুলের মা পারুল বেগমের মোবাইল নম্বর 01322267360 থেকে কল দিয়ে অভিযুক্তরা মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। অন্যথায়, এনামুলকে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হয়। পরে দুপুরে ভুক্তভোগীর পরিবার নগদ ৩০ হাজার টাকা দেয়, তবুও তাকে মুক্তি না দিয়ে আরও টাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি থানায় জানানো হলে পুলিশের সহায়তায় এনামুলকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) এনামুলের স্ত্রী নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৬, ৪২৭, ৩৭৯, ৩৮০, ৩৬৫, ৫০৬, ১১৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর: ৭(৩)২৫)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মাকসুদুল কবীর নকিব জানান, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সোহেল কারাগারে রয়েছে। তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য: ২০২০ সালের ৫ আগস্ট কাপাইশ এলাকায় এক কলেজ ছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণ চেষ্টার মামলার আসামি ছিলেন এনামুল মোড়ল। সে সময় ১৪ আগস্ট পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।