গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাজতন্ত্র ফেরানোর দাবিতে নেপালে চলছে আন্দোলন। এবার সে আন্দোলনই আবার সংঘাতময় হয়ে উঠল।
শনিবার (২৯ মার্চ) দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডুসহ সংলগ্ন এলাকায় রাজা জ্ঞানেন্দ্রর সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে দুজনের মৃত্যু এবং বহু মানুষ আহত হন। এ ঘটনার জেরে অচল হয়ে পড়েছে দেশের বিস্তীর্ণ অংশ।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেনা টহল চলছে।
পুলিশের অভিযোগ, গত শুক্রবার (২৮ মার্চ) সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্রকে ফেরানোর দাবিতে আন্দোলনকারীরা একাধিক সরকারি ভবন ভাঙচুরের পাশাপাশি যানবাহন, বিভিন্ন শপিং মল ও দোকানে অগ্নিসংযোগও করে। তাদের অনেকেই সশস্ত্র ছিলেন। নতুন সংবিধান কার্যকরের সময় লুপ্ত হয়ে যাওয়া রাজতন্ত্র এবং ‘রাজধর্ম’ ফেরানোর দাবি তোলেন তারা। সেই সঙ্গে নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান তথা দেশের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং বিরোধী দলের নেতা পুষ্পকমল দহল প্রচণ্ডের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এক ভিডিওবার্তায় দেশের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জ্ঞানেন্দ্র। পাশাপাশি তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য নেপালবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। এর পরপরই তার প্রতি অভূতপূর্ব সমর্থনের ঢল নামে।
রাজতন্ত্রের সমর্থক রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির পাশাপাশি গণতন্ত্রপন্থি নেপালি কংগ্রেসের সমর্থকদের একাংশও ‘প্রতীকী রাজতন্ত্রের’ প্রত্যাবর্তন চাইছেন। এই আবহে শুক্রবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা মাওবাদী নেতা প্রচণ্ড পাল্টা রাজতন্ত্রবিরোধী সভা করে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দেন। এর পরপরই শুরু হয় গণ্ডগোল।
নেপালে নতুন করে অস্থিরতার শুরু চলতি মাসের প্রথম দিকে। নেপালের পশ্চিমাঞ্চল সফর শেষ করে জ্ঞানেন্দ্র কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে স্বাগত জানাতে সেদিন হাজির হয়েছিলেন বিপুলসংখ্যক সাধারণ নাগরিক। সেখানে স্লোগান ওঠে- ‘আমরা আবার রাজতন্ত্র চাই’।
জ্ঞানেন্দ্রকে আবার রাজপ্রাসাদে বসবাস করতে দেওয়ার দাবিও ওঠে। সেই সঙ্গে দাবি তোলা হয় নেপালকে আবার ‘হিন্দুরাষ্ট্র’ ঘোষণার। সেদিনই পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের একপ্রস্থ বাগবিতণ্ডা হয়।
প্রসঙ্গত, প্রায় দুই দশক আগে নেপালে প্রচলিত ছিল রাজতন্ত্র। শেষ রাজা ছিলেন জ্ঞানেন্দ্র। ২০০৬ সালে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। এর পর ২০০৮ সালের মে মাসে সংবিধান সংশোধন করে ২৪০ বছরের পুরোনো রাজতন্ত্র ভেঙে নেপালে প্রতিষ্ঠিত হয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। ২০১৫ সালে অনুমোদিত হয় নতুন ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ সংবিধান। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জ্ঞানেন্দ্র নেপালের সাধারণ নাগরিক হিসেবে বসবাস করেন। তার কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই। রাজপ্রাসাদে যাওয়ার অনুমতি নেই। কোনো সরকারি সুবিধাও পান না তিনি। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা