গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক: ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় জামিন পাওয়া ২৭ সাবেক বিডিআর সদস্য কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
জামিন আদেশের তিন দিন পর বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সকাল ১০টা থেকে তারা মুক্তি পেয়ে একে একে কারাগার ত্যাগ করেন। এ সময় কারা ফটকের সামনে মুক্তিপ্রাপ্তদের স্বজনদের ভিড় জমে এবং সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এর আগে সোমবার ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ইব্রাহিম মিয়া ৪০ জন আসামির জামিন মঞ্জুর করেন বলে জানিয়েছেন আদালতের প্রধান কৌঁসুলি বোরহান উদ্দিন।
জামিন পাওয়া ৪০ জনের মধ্যে বৃহস্পতিবার কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ১১ জন, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১ থেকে পাঁচজন এবং পার্ট-২ থেকে ১০ জন মুক্তি পান। এর আগে বুধবার ওই ইউনিট থেকে আরও একজন সাবেক বিডিআর সদস্য মুক্তি পান।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেরাণীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালত সোমবার বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় এই ৪০ জনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় খালাস পাওয়া ১৭৮ জন বিস্ফোরক মামলায় জামিন পেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবারের জামিনসহ মোট ২১৮ জন সাবেক বিডিআর সদস্য জামিনে মুক্তি পেলেন। তারা এবং তাদের স্বজনরা এসময় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ আল মামুন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, বুধবার বিকেলে জামিন পাওয়া ২৭ জনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছায়। যাচাই-বাছাই শেষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদরদপ্তরে বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। এই ঘটনাটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ঘটনার পর বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাখা হয় এবং বাহিনীর পোশাকেও পরিবর্তন আনা হয়।
বিদ্রোহের বিচার বিজিবির নিজস্ব আদালতে হলেও, হত্যাকাণ্ড ও বিস্ফোরক মামলার বিচার হয় প্রচলিত আদালতে। হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাজাভোগ বা খালাসপ্রাপ্ত অনেক সদস্য বিস্ফোরক আইনের মামলার কারণে মুক্তি পাননি। বর্তমানে ৪৬৮ জনের মধ্যে মোট ২১৮ জন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।