বিশেষ প্রতিনিধি : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ভারতকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত কি বাংলাদেশের প্রতি শিষ্টাচার দেখাচ্ছে, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে?
শনিবার (১৪ জুন) বিকেলে গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর মুক্তিযোদ্ধা কলেজ মাঠে বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী অভিযোগ করেন, “প্রতিদিন সীমান্ত দিয়ে ২০, ২৫, এমনকি ৪০ জন করে বিদেশি নাগরিককে বাংলাদেশে পুশ ইন করা হচ্ছে। বিজিবি যাদের ধরছে, তাদের মধ্যে ভারতের পরিচয়পত্র পাওয়া যাচ্ছে। এটা বন্ধুত্ব নয়, এটা একটি স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা।”
তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার সময় তো এমন ছিল না। তাহলে এখন কেন এমন আচরণ? এর পেছনে কী উদ্দেশ্য?”
রিজভী আরও বলেন, “বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ, যার নিজস্ব পতাকা, ভূখণ্ড এবং ইতিহাস রয়েছে। এই দেশের মানুষ ১৯৭১, ১৯৯০, ৭ নভেম্বরের মতো ঐতিহাসিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। কেউ যদি এদেশকে হেয় করে, জনগণ প্রতিরোধ জানাতে জানে।”
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “যদি ভারত পুশ ইন অব্যাহত রাখে, তাহলে তার দায়ভার ভারতেরই নিতে হবে।”
বিএনপি নেতাদের লন্ডন বৈঠক নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে হওয়া বৈঠক দেখে কারও কারও মনে জ্বালা ধরেছে। কেউ কেউ বলছেন নিরপেক্ষতা নষ্ট হয়েছে। অথচ নিজেরাই ইতিহাসজুড়ে নানা সময় ভিন্ন ভিন্ন পক্ষ নিয়েছেন। এটাই কী তাদের নিরপেক্ষতা?”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপির রাজনীতি সবসময় ইতিবাচক। দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমরা আপসহীন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আপোষ করলে আজ জেলে থাকতেন না। কিন্তু তিনি কখনো জনগণকে ছেড়ে যাননি।”
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময় নিয়ে রিজভী বলেন, “ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে রমজান ও ঈদ রয়েছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি নির্বাচন দিলে প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন না। সেহেতু ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহই উপযুক্ত সময়— যখন কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান নেই, আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, আন্দোলনের পরিবেশ তৈরি হয়।”
গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ূন কবির খান, সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার, মো. মুজিবুর রহমান, ওমর ফারুক শাফিন, আবু তাহের মুসল্লী, ফজলুল হক মুসল্লী এবং এমদাদুল হক মুসল্লী প্রমুখ।