ইসরায়েলিরা বাংকারে, ইরানিরা রাস্তায়

ইসরায়েলিরা বাংকারে, ইরানিরা রাস্তায়

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি ধর্মীয় সমাবেশ ইসরায়েলবিরোধী এক বিশাল বিক্ষোভে রূপ নেয়।

শনিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় ইমাম হোসেইন স্কয়ার থেকে শুরু হয়ে আজাদি স্কয়ার পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারজুড়ে লাখো ইরানি অংশ নেয় ‘ইরান: আলির জুলফিকার’ নামক আয়োজনে। মূলত ঈদে গাদির উপলক্ষে আয়োজিত এ জমায়েত ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় নিহত শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের স্মরণে রূপ নেয় তীব্র প্রতিবাদে।

প্রতিবাদকারীরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠেন—“ইসরায়েল ধ্বংস হোক! নেতানিয়াহু ধ্বংস হোক!”—এমনই প্রতিধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে চারদিক। অনেকেই ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে স্বাগত জানিয়ে আরও কঠোর জবাব দাবি করেন।

ভোর রাতে সাইরেন বাজানোর পর আশ্রয়কেন্দ্রে জড়ো হয়েছিল ইসরায়েলিরা

অপরদিকে গত রাত ৩টার দিকে সাইরেনের শব্দ ও মোবাইলের সতর্কবার্তায় ঘুম ভাঙে ইসরায়েলের জনগণের।দেশটির সরকারের তরফ থেকে মানুষকে জানানো হয়, তাদের সামনে একটি “গুরুতর হুমকি” রয়েছে। তাই, সবাই যেন আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি স্থানে অবস্থান করে।

তেহরানে একটি ধর্মীয় সমাবেশে অংশ নেওয়া শিক্ষিকা ফাতেমা বাদরান বলেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না। কিন্তু তারা আমাদের ভূমিতে হামলা করলে চুপ করে থাকা যায় না।”

এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকা সামিরা ফারহাদী বলেন, “আমরা এখানে প্রার্থনা ও শোক পালনে এসেছিলাম। কিন্তু কমান্ডারদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না।”

অনেকেই আয়াতুল্লাহ খামেনির ছবি ও হাতে লেখা ব্যানার বহন করেন—যেমন “টেল আভিভ পুড়বে” ও “কঠোর প্রতিশোধ আসন্ন।”

২৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ কাদামী বলেন, “এটা শুধু প্রতিশোধ নয়, এটা আত্মরক্ষা। তারা শুরু করেছে, এখন আমাদের পালা।”

সড়কের দুই পাশে বিতরণ করা হয় খাবার, মিষ্টি ও পানীয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন শহিদদের কথা স্মরণ করে।

এক প্রবীণ নাগরিক বলেন, “আমি যুদ্ধ দেখেছি। এটা শুধু রক্ত আর দুর্ভিক্ষ বয়ে আনে।”

এক মা তার সন্তানদের নিয়ে এসে বলেন, “আমার হৃদয় কাঁদে শহিদদের জন্য, কিন্তু মন ভয় পায় আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।”

অনেকে খাদ্য মজুত শুরু করেছেন। স্থানীয় এক বেকারি মালিক জানান, গতকালের মতো বিক্রি ৮০’র দশকের যুদ্ধের সময়ের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।

১৪ বছরের এক কিশোর বলে, “আমরা ঈদে গাদিরে এসেছি, কিন্তু এই উপস্থিতি জানিয়ে দিচ্ছে—সিওনিস্টরা আমাদের চ্যালেঞ্জ করার সাহস রাখে না।”

সমাবেশে অংশ নেওয়া এক ধর্মীয় নেতা বলেন, “আমাদের সেনারা গরমে কষ্ট করে দেশের জন্য লড়ছে। আমরা ইসলামি যোদ্ধাদের পাশে আছি।”

আলেম ছাত্র মোহাম্মদ জালালী সংক্ষিপ্তেই বলে দেন: “বার্তাটা পরিষ্কার—আমরা প্রস্তুত, আমরা ভয় পাই না, আমরা ভুলে যাব না।”