গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিহত শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও সাধারণ নাগরিকদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করেছে ইরান।
শনিবার তেহরানের আজাদি স্কয়ারে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শোকাবহ এই আয়োজনে লাখো মানুষ অংশ নেয়।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, নিহতদের মধ্যে ১৬ জন পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও ১০ জন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন। নিহতদের কফিনে ইরানের পতাকা ও তাদের ছবি ছিল। লোকজন কফিন ছুঁয়ে দেখছে, কেউ কেউ ফুল ছুঁড়ে দিচ্ছেন।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, সর্বোচ্চ নেতা খামেনির উপদেষ্টা আলী শামখানি (যিনি যুদ্ধে আহত হয়েছেন) ও খামেনির ছেলে মুজতবা। জানাজা শেষে আজাদি স্কয়ারে মিলিত হন হাজারো মানুষ, যেখানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও প্রদর্শন করা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, “ইরান দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের হামলার মুখেও সম্মান আর মর্যাদা ধরে রেখেছে।”
যুদ্ধের শুরুতে, ১৩ জুন, ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়, যাতে বাঘেরি, সালামি ও হাজিজাদেহ নিহত হন। এরপর ইরান ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি ও শহরে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের স্থাপনায় হামলা চালায়।

মানবিক ক্ষয়ক্ষতি
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে ইরানে ৬১০ জন নিহত ও ৪,৭০০ জন আহত হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থা HRANA জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৯৭৪, যার মধ্যে ৩৮৭ জন সাধারণ মানুষ।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের দেশে ২৮ জন নিহত এবং ৩,২৩৮ জন আহত হয়েছে।
খামেনির অবস্থান ও ট্রাম্পের হুমকি
সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনি এখনো প্রকাশ্যে আসেননি। তবে তিনি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ইরানে হামলা হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, তিনি আবারও ইরানে বোমা হামলার কথা বিবেচনা করছেন।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্দেশ্যে ব্যর্থ হয়েছে।” যুদ্ধের পর মঙ্গলবার উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।