
গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা মরদেহগুলোর মধ্যে সাত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এই মরদেহগুলো এমনভাবে পুড়েছে যে তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে এখন ডিএনএ টেস্টের প্রয়োজন হবে।
সোমবার (২১ জুলাই) রাতে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ, জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন।
ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘বার্ন ইনস্টিটিউটে ২৫ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন। উত্তরা থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ৪৪ জনকে আনা হয়েছে এই হাসপাতালে। এখানে আনার পরে তিন জন মারা যান। আমরা এখান থেকে চারজন রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠাই। সেখানে একজন মারা গেছেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ হাসপাতাল একেবারেই বিশেষায়িত একটি প্রতিষ্ঠান। আহতদের চিকিৎসা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে সম্ভব। যদি মনে হয়, তাদের জন্য এখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে সরকারের সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি আছে। যদি কোনোভাবে মনে হয় কোনো রোগীকে বিশেষ সেবার জন্য কোথাও পাঠালে উপকার হবে; তাকে পাঠানোর জন্য সরকারের দিক থেকে কোনো দ্বিধা থাকবে না।’
অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন, ‘৪০ শতাংশ না ৫০ শতাংশ পুড়েছে, তা দেখে কেবল সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে রোগীরা কতটা আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছে এটা বলা কঠিন। কারণ, ক্রস ইনফেকশন হলে, সেপসিস (রক্তে বিষক্রিয়া) বেড়ে গেলে কিন্তু ১৫ শতাংশের রোগীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চলে যেতে পারে।’
এর আগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় শনাক্ত করা যাবে, তাদের মৃতদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আর যাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যাবে না, তাদের মৃতদেহ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করে পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে ঢাকার কুর্মিটোলার বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকার থেকে উড্ডয়নের পর যান্ত্রিক ত্রুটির সম্মুখীন হয়। পরে সেটি উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি দোতলা ভবনে বিধ্বস্ত হয়।
এ ঘটনায় পাইলটসহ ২০ জন নিহত এবং দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হতাহতদের অধিকাংশই শিশু এবং তারা মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষার্থী।



