শতকোটি টাকা নিয়ে পালাল ফ্লাইট এক্সপার্ট, বন্ধ ওয়েবসাইট

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় অনলাইন ফ্লাইট বুকিং প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’ হঠাৎ করে বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে। বন্ধ রয়েছে তাদের ওয়েবসাইট, অফিসেও তালা ঝুলছে। অভিযোগ উঠেছে—এ প্ল্যাটফর্ম শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এর উদ্যোক্তারা দেশ ছেড়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটির সেলস বিভাগের এক কর্মকর্তা, মামুনুর রশিদ, গণমাধ্যমকে জানান, “গত রাতেই আমাদের মালিক দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন। আমরা এখন থানায় যাচ্ছি মামলা করতে।”
ফ্লাইট এক্সপার্টের অভ্যন্তরীণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি বার্তায় সংস্থার সিওও সালমান অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানের অন্য তিন শীর্ষ ব্যক্তি—সাঈদ, হোসাইন ও সাকিব—তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিয়েছেন। তিনি জানান, একটি বৈঠকে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই সব দোষ তার ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়।
সালমান আরও বলেন, “তারা সকালেই ৩ কোটি টাকার মতো অর্থ তুলে নিয়েছেন এবং কোম্পানির লিকুইডিটি বিপর্যয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছে যে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।” তিনি বলেন, নিজের নিরাপত্তার জন্যই তিনি ছুটি নিয়েছেন এবং এভাবে চলে যাওয়ার ইচ্ছা তার ছিল না।
এদিকে ফ্লাইট এক্সপার্টের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ঢুঁ মেরে দেখা গেছে, তাদের সর্বশেষ পোস্ট হজ ২০২৬ নিয়ে। সেখানে হজ রেজিস্ট্রেশন ও প্যাকেজের মূল্য জানানো হয়েছিল। এরপর থেকে কোনো পোস্ট বা আপডেট নেই।
ঘটনার পর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একজন ব্যবহারকারী জয়িতা আফ্রিন হতাশ হয়ে লেখেন, “ফ্লাইট এক্সপার্টের মতো ট্রাস্টেড কোম্পানি যদি হঠাৎ দেশ ছেড়ে পালায়, তাহলে আর কাকে বিশ্বাস করব?”
২০১৭ সালের মার্চে যাত্রা শুরু করে ফ্লাইট এক্সপার্ট। শুরুতে তারা ঘটা করে একটি লঞ্চ ইভেন্টের মাধ্যমে বাজারে আসে এবং দ্রুতই বাংলাদেশের অনলাইন ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম বড় নাম হয়ে ওঠে। দেশি-বিদেশি বিমান সংস্থার টিকিট, হোটেল বুকিং, ট্যুর প্যাকেজ ও ভিসা প্রসেসিং—সব মিলিয়ে তারা এক ছাতার নিচে বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল।
বিশেষ করে অনলাইনে সহজে ও সাশ্রয়ী দামে টিকিট বুকিংয়ের সুবিধা থাকায় তরুণ গ্রাহকদের মাঝে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। ডিসকাউন্ট অফার, কিস্তিতে টিকিট বুকিংয়ের সুবিধাও জনপ্রিয়তার পেছনে বড় ভূমিকা রাখে।



