রয়টার্স : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে বৈঠক আগামী সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা (বিশেষত চীনসহ কিছু দেশের ওপর) আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই বৈঠকটি হলে এটি হবে বাইডেন-পুতিনের ২০২১ সালের জেনেভা বৈঠকের পর প্রথমবার কোনো মার্কিন ও রাশিয়ান প্রেসিডেন্টের মুখোমুখি সাক্ষাৎ।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকেও যুক্ত করে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
“খুব শিগগিরই একটি বৈঠক হতে পারে,” সাংবাদিকদের এমনটাই বলেছেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, রাশিয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং ট্রাম্পও উভয় নেতার সঙ্গেই আলোচনায় আগ্রহী।
এর আগে বুধবার পুতিন ও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেটিকে ট্রাম্প “দারুণ অগ্রগতি” হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে পরে জানান, এটি এখনই “ব্রেকথ্রু” বলা যাচ্ছে না।
ক্রেমলিনের এক উপদেষ্টা বৈঠকটিকে “গঠনমূলক” ও “উপকারী” হিসেবে বর্ণনা করেন।
শান্তির চাপ ও নিষেধাজ্ঞার আল্টিমেটাম
ট্রাম্প ইতোমধ্যে রাশিয়াকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন — ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সম্মত না হলে শুক্রবার থেকে নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এর মধ্যে রাশিয়ান পণ্য আমদানিকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক বসানো অন্যতম।
ভারতের ওপর এরই মধ্যে ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক বসানো হয়েছে রাশিয়ার তেল কেনার কারণে। এবার সেই তালিকায় চীনও যোগ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
চীনের কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী সতর্ক করেছেন যে, রাশিয়ার তেল কিনলে বড় ধরনের শুল্কের মুখে পড়তে হবে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যকার চলমান ৯০ দিনের শুল্ক বিরতির মেয়াদ শেষ হবে ১২ আগস্ট।
ইউক্রেনের প্রতিক্রিয়া ও সামরিক বাস্তবতা
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি তার এক বক্তব্যে বলেন, আন্তর্জাতিক চাপ রাশিয়ার ওপর কাজ করছে। তবে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন, যেন রাশিয়া আলোচনার নামে প্রতারণা না করে। জুলাই-আগস্টে রাশিয়া কিয়েভে সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায়, যেখানে অন্তত ৭২ জন নিহত হয়েছে। ট্রাম্প এসব হামলাকে “জঘন্য” বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে ইউক্রেনও পাল্টা হামলায় রাশিয়ার রিফাইনারি ও তেল ডিপোতে একাধিকবার আঘাত হানে।
রয়টার্সের সূত্র মতে, পুতিন এখনো বিশ্বাস করেন রাশিয়া যুদ্ধে এগিয়ে আছে এবং সামরিক লক্ষ্য অর্জনই তার অগ্রাধিকার, তাই নতুন নিষেধাজ্ঞায় খুব একটা প্রভাব পড়বে না।
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব?
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি সম্ভাব্য বিমান হামলা বিরতির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ ও রাশিয়ান সংবাদমাধ্যম The Bell। এটি মূলত বেলারুশ প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কোর মাধ্যমে উঠে আসে। তবে এটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির চেয়ে অনেক কম, যদিও তা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।