গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : দীর্ঘ ১৩ বছর পর পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফরে এসেছেন।
সফরের প্রথম দিন শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার পৃথকভাবে তিনটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। অংশ নেয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপি।
বিএনপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ। তবে বৈঠক শেষে বিএনপি নেতারা কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।
জামায়াতে ইসলামির পক্ষে নেতৃত্ব দেন দলটির নায়েবে আমীর আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আলোচনায় আঞ্চলিক বাণিজ্য, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, সার্ক কার্যকারিতা এবং মুসলিম বিশ্বে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের ওপরও জোর দেন তিনি।
এনসিপির পক্ষ থেকে সদস্যসচিব আখতার হোসেন বৈঠকে অংশ নেন। তিনি জানান, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে দুই দেশের সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয় উঠে আসে। বিশেষভাবে ‘বড় ভাই সুলভ’ মানসিকতা পরিহার করে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি এসেছে আলোচনায়।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় পানিকে ঘিরে সম্ভাব্য সংকট ও যুদ্ধের ঝুঁকি গুরুত্ব পায় আলোচনায়। নদীমাতৃক বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা পাকিস্তানের সঙ্গে ভাগাভাগি করার কথাও উঠে আসে। পাশাপাশি, ওষুধ শিল্প, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।
এর আগে শনিবার দুপুরে পাকিস্তানের একটি বিশেষ বিমানে ঢাকায় পৌঁছান ইসহাক দার। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনে রবিবার ইসহাক দারের মূল কূটনৈতিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে। এসময় একান্ত ও প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনায় পাঁচ থেকে ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে জানা গেছে।
এছাড়া বিকেলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ইসহাক দার। সফরকালে তিনি আরও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।