আন্তর্জাতিক

ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সেনা মোতায়েনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

রয়টার্স : যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে শনিবার কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেনা মোতায়েনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা দাবি করেন, ন্যাশনাল গার্ড ও ফেডারেল বাহিনী রাজধানীর রাস্তাঘাট থেকে সরিয়ে নিতে হবে।

“উই আর অল ডিসি” শিরোনামের এই মিছিলে অংশ নেয় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ, এমনকি অনথিভুক্ত অভিবাসী ও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র সমর্থকরাও। তাদের হাতে ছিল পোস্টার— “Trump must go now,” “Free DC” এবং “Resist Tyranny।”

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অ্যালেক্স লাফার বলেন, “আমি এখানে এসেছি ওয়াশিংটনকে দখলদার বাহিনী থেকে মুক্ত করার দাবিতে। আমাদের রাস্তায় সেনা নয়, স্বাধীনতা চাই।”

ট্রাম্পের পদক্ষেপ ও সমালোচনা

অপরাধ দমনের কথা বলে গত মাসে ট্রাম্প ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেন এবং স্থানীয় মেট্রোপলিটন পুলিশকে সরাসরি ফেডারেল নিয়ন্ত্রণে নেন। এমনকি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সদস্যরাও শহরে টহল দিচ্ছে। সমালোচকরা এটিকে “ফেডারেল ক্ষমতার অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ওয়াশিংটনে সহিংস অপরাধ ছিল গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বর্তমানে রাজধানীতে ছয়টি রিপাবলিকান শাসিত রাজ্য থেকে আসা দুই হাজারেরও বেশি সৈন্য মোতায়েন আছে। সেনাদের এই দায়িত্ব নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

আইনি চ্যালেঞ্জ ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

ওয়াশিংটনের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রায়ান শোয়াল্ব ট্রাম্পের এই সেনা মোতায়েনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তিনি যুক্তি দেন, এটি অসাংবিধানিক এবং একাধিক ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছে।

অন্যদিকে কিছু বাসিন্দা সেনা মোতায়েনকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে সেনাদের উপস্থিতি দরকার। তবে এখন পর্যন্ত সেনারা মূলত ডাউনটাউন ও পর্যটন এলাকায় টহল দিচ্ছে।

মেয়র মুরিয়েল বাউসার স্বীকার করেছেন, সেনা মোতায়েনের পর গাড়ি ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কমেছে। যদিও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সেনাদের দায়িত্ব দ্রুত শেষ হবে।

ট্রাম্পের বার্তা ও সমালোচনা

শনিবার বিক্ষোভ চলাকালে ট্রাম্প নিজে ছিলেন গলফ কোর্সে। পরে তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ শিকাগো নিয়ে হুমকিমূলক বার্তা দেন। সেখানে তিনি লিখেন— “I love the smell of deportations in the morning” এবং ঘোষণা দেন, প্রতিরক্ষা দপ্তরের নাম পরিবর্তন করে “Department of WAR” রাখা হবে।

বার্তার সঙ্গে যুক্ত ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ছবি, যেখানে ট্রাম্পকে ভিয়েতনাম যুদ্ধভিত্তিক সিনেমা “Apocalypse Now”-এর সেনা কর্মকর্তার সাজে দেখা যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button