আন্তর্জাতিক

ভারতকে দুষছেন নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নেপালের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পরোক্ষভাবে তার অপসারণের জন্য ভারতকে দায়ী করেছেন। বলা হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ২৬টি প্ল্যাটফর্ম বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সারা দেশে হওয়া আন্দোলনে পুলিশের দমন-পীড়নে ১৯ জন নিহত হওয়ার পর নেপালের সেনাবাহিনীর চাপেই তিনি পদত্যাগ করেন।

তবে তিনি সেনাবাহিনীর চাপের কথা সরাসরি না বলে জাতীয়তাবাদের প্রসঙ্গ টেনে ভারতের দিকে ইঙ্গিত করেন। নেপাল সেনার শিবপুরি ব্যারাক থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে অলি বলেন, লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরা সীমান্ত বিরোধ ইস্যু না তুললে এখনও তিনি ক্ষমতায় থাকতেন। এসব অঞ্চল নিয়ে নেপাল ও ভারতের বিরোধ রয়েছে।

ওলি দাবি করেন, তিনি ক্ষমতা হারিয়েছেন কারণ তিনি ‘অযোধ্যায় ভগবান রামের জন্মে’র বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। তিনি বলেন, আমি জোর দিয়ে বলেছি যে লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরা নেপালের অংশ। আমি এও বলেছি, ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী ভগবান শ্রী রামের জন্ম নেপালে, ভারতে নয়। আমি যদি এসব বিষয়ে আপস করতাম, তবে অনেক সহজ পথ বেছে নিতে পারতাম এবং বহু সুবিধা ভোগ করতে পারতাম।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জাতীয়তাবাদী আবেগ উসকে দিতে গিয়ে এই কমিউনিস্ট নেতা আরও বলেন, যদি লিম্পিয়াধুরাসহ নেপালের মানচিত্র জাতিসংঘে পাঠানো না হতো, অথবা আমি যদি অন্যদের সিদ্ধান্ত নিতে দিতাম, তবে আমার জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত।

লিপুলেখ গিরিপথ হিমালয়ের ১৬ হাজার ৭৮০ ফুট উচ্চতায় নেপাল, ভারতের উত্তরাখণ্ড ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের সীমান্তে অবস্থিত। নেপাল দাবি করে, কালাপানি নামে এই গিরিপথের দক্ষিণাংশ তাদের ভূখণ্ড। ভারতেরও দাবি, ওই এলাকা ব্রিটিশ আমল থেকেই তাদের প্রশাসনের অধীনে রয়েছে।

কালাপানি অঞ্চল, লিপুলেখ গিরিপথ ও লিম্পিয়াধুরা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তি থেকে, যেখানে কালী নদীকে নেপালের পশ্চিম সীমান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

নেপালের দাবি, কালী নদীর উৎস লিম্পিয়াধুরা, ফলে কালাপানি ও লিপুলেখ তাদের ভূখণ্ডের মধ্যে পড়েই। অন্যদিকে ভারত নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে উত্তরাখণ্ডের অংশ হিসেবে। দিল্লির যুক্তি, কালী নদীর উৎসস্থান কালাপানির কাছাকাছি অবস্থিত।

২০১৯ সালে ভারত নতুন মানচিত্র প্রকাশ করলে, তাতে কালাপানিকে ভারতের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ২০২০ সালে নেপাল নিজেদের রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরাকে নেপালের ভূখণ্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button