জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর’ সংস্থা বললেন ট্রাম্প

জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর’ সংস্থা বললেন ট্রাম্প

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে সংঘাত রোধে জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘের অকার্যকর সংস্থা উল্লেখ করে তিনি আরও দাবি করেছেন, এখন পর্যন্ত তার মধ্যস্থতায় বিশ্বজুড়ে সাতটি যুদ্ধবিরতি সফল হয়েছে।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশন ভাষণে এই দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প বলেন, ‘এটা খুবই খারাপ যে জাতিসংঘের পরিবর্তে আমাকে এই কাজগুলো করতে হয়েছে এবং দুঃখের বিষয় হল, সব ক্ষেত্রেই জাতিসংঘ আমাকে সাহায্য করার চেষ্টা পর্যন্ত করেনি।’

নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সেই সময় আমি এ বিষয়ে ভাবিনি কারণ আমি লাখ লাখ মানুষকে বাঁচানোর জন্য ব্যস্ত ছিলাম। পরে বুঝতে পারলাম, জাতিসংঘ আমাদের পাশে ছিল না।

জাতিসংঘ সদর দফতরে ভাঙা লিফট এবং টেলিপ্রম্পটারের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি জাতিসংঘ থেকে দুটি জিনিস পেয়েছি—একটি খারাপ এসক্যালেটর এবং একটি খারাপ টেলিপ্রম্পটার।’

প্রসঙ্গত, ট্রাম্প স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে জাতিসংঘ সদর দফতরে প্রবেশের সময় একটি চলন্ত সিড়িতে ওঠার পরপরই সেটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাকি ধাপগুলো পায়ে হেঁটে উঠতে হয়। ভাষণ দিতে গিয়ে টেলিপ্রম্পটার নষ্ট দেখতে পান ট্রাম্প। এই দুটি অব্যবস্থাপনা যেন জাতিসংঘের সামগ্রিক ‘দুর্বলতা’র প্রতীক হয়ে ধরা দেয় তার কাছে।

ট্রাম্প প্রশ্ন রাখেন, ‘জাতিসংঘের উদ্দেশ্যটা কি? এ সংস্থার বিশাল সম্ভাবনা আছে… কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা সেই সম্ভাবনার কাছাকাছি পর্যন্তও পৌঁছাতে পারেনি। তারা বেশিরভাগ সময়ই খুব কড়া ভাষায় বিবৃতি দেয়। তবে নিজেরাই ওই বিবৃতি অনুযায়ী কাজ করে না।’

গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি ‘গভীরভাবে নিযুক্ত’ রয়েছেন উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমাদের অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। আমাদের এটা বন্ধ করতে হবে।’

ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের এটা সম্পন্ন করতে হবে। আমাদের শান্তি আলোচনা করতে হবে। আমাদের জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা ২০ জন জীবিত ফিরিয়ে আনতে চাই… এখনই তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে আমরা ৩৮টি মৃরদেহও ফেরত চাই।’

হামাস বারবার শান্তি স্থাপনের যুক্তিসঙ্গত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে দাবি করে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশের ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি হামাসের জন্য একটি “পুরষ্কার” ছিল।’

সূত্র: আলজাজিরা