গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে তিনি বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
ড. ইউনূসের সাক্ষাৎকার তালিকায় ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ, নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস, চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং উরুগুয়ের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনের পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় ড. ইউনূস বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, গৃহীত সংস্কার উদ্যোগ ও অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অস্ট্রেলিয়ান প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনী এলাকায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ভাষা শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা স্মরণ করেন।
এরপর ড. ইউনূস সাক্ষাৎ করেন নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমার সঙ্গে, যিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নের বিশেষ অ্যাডভোকেট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বৈঠকে গ্লোবাল সাউথ-এ স্বাস্থ্য বীমা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক ব্যবসায়িক মডেলের প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ড. ইউনূস ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন এবং ওষুধ শিল্পে সামাজিক ব্যবসার মডেল বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি রানি ম্যাক্সিমাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে রাজকুমারী ক্যাথারিনা-আমালিয়াও উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রোসের সঙ্গে বৈঠকে ড. ইউনূস বৈশ্বিক স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করেন।
এছাড়াও তিনি ‘ফ্যাশন ফর ডেভেলপমেন্ট’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের মধ্যে সামাজিক উদ্ভাবনের সহযোগিতা নিয়ে আয়োজিত অপর একটি আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।