গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডসহ পাঁচটি মামলায় উচ্চ আদালতে জামিন পাওয়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আরও চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে আবেদন করেছে পুলিশ।
রোববার (৯ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ সদর ও ফতুল্লা মডেল থানায় করা দুটি মামলা এবং সোমবার ফতুল্লা থানায় করা আরও দুটি মামলায় আইভীকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর আবেদন করা হয়।
দুদিনে মোট চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদন শুনানির জন্য আদালত ১৩ নভেম্বর দিন রেখেছেন বলে জানিয়েছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক কাইউম খান।
রোববার দুপুরে হাই কোর্টের বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আইভীকে পাঁচটি মামলায় জামিন দেন।
নারায়ণগঞ্জ শহরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ছয় মাস ধরে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে বন্দি সাবেক এ সিটি মেয়র।
পুলিশ জানায়, নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা মামলা দুটির একটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সংঘটিত হত্যার ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায়; অপর মামলাটি আইভীকে গ্রেপ্তারে বাধা এবং পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে সদর মডেল থানায় করা।
দুটি মামলার একটিতেও আইভী এজাহারনামীয় আসামি নন। তবে তদন্তে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারের আবেদন জানানো হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমকে সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমদ জানান।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেনও সংবাদ মাধ্যমকে একই কথা বলেন।
২০২২ সালে টানা তৃতীয়বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভী। গত বছর গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ১৯ আগস্ট সারাদেশে সিটি করপোরেশনের মেয়র অপসারণ করলে পদ হারান আইভীও।
পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা ও সশস্ত্র হামলা চালিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের একাধিক থানায় দায়ের করা অন্তত পাঁচটি মামলায় আসামি করা হয় আইভীকে। গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর আন্দোলনে শহীদ পোশাক শ্রমিক মিনারুল ইসলাম হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো আসামি করা হয়।
২০২৪ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আদমজী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন পোশাক শ্রমিক মিনারুল ইসলাম। পরে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সরকার পতনের পর মিনারুলের ভাই নাজমুল হক শেখ হাসিনাসহ ১৩২ জনের নামে ও অজ্ঞাত আরও ৩০০ জনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলার ১২ নম্বর আসামি সেলিনা হায়াৎ আইভী।
রাতভর অপেক্ষার পর ৯ মে সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম দেওভোগের বাড়ি থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পথে আইভীকে বহন করা পুলিশের গাড়িবহরে হামলার ঘটনাও ঘটে।
সূত্র: বিডিনিউজ



