কালীগঞ্জে কৃষক হত্যায় কৃষকদল নেতার ভাই গ্রেপ্তার
বিশেষ প্রতিনিধি : কালীগঞ্জে মনির মোল্লা (৫৫) নামের এক কৃষককে হত্যার মামলায় জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সিরাজ মৃধা ওরফে সিরার ভাই বেদন মৃধা (৫৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে তাকে গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামানের আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
গ্রেপ্তার বেদন মৃধা কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নের পাড়াবর্থা এলাকার মৃত সমির উদ্দীন মৃধার ছেলে।
নিহত মনির মোল্লা একই এলাকার মৃত আবুল হাসেম মোল্লার ছেলে এবং স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। পেশায় তিনি কৃষক।
মঙ্গলবার গাজীপুর জেলা পুলিশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মনির মোল্লা বাড়ির পাশের সেলিম মিয়ার চায়ের দোকানে যান। পরে সন্ধ্যায় তার পরিবার খবর পায়—নাগরী ইউনিয়নের পূর্বাচল সিটির ২৪ নম্বর সেক্টরের ফরেস্ট বিট অফিসের পাশে মাঠে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, মনির মোল্লার দুই পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তার লাশ মাঠে পড়ে আছে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা—৯৯৯–এ খবর পেয়ে উলুখোলা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা লাশ উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ঘটনাস্থলে গিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে নিহতের স্ত্রী জোসনা বেগম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা (নং–০৭/১২/২৫) করেন।
পরবর্তী সময়ে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন প্রযুক্তির সহায়তা এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে বেদন মৃধাকে শনাক্ত করেন।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে নাগরী ইউনিয়নের পাড়াবর্থা টেকপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে বেদন মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ বলছে, পুরোনো বিরোধের জেরে মনির মোল্লাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনা আরও কেউ জড়িত আছে কি না—তা যাচাই করা হচ্ছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা বলেন, ঘটনার পর তারা আতঙ্কের মধ্যে আছেন। তাদের বাড়িতে নির্মাণকাজ চলছিল। হত্যাকাণ্ডের পর সুযোগ পেয়ে নির্মাণাধীন স্থানে রাখা কয়েক হাজার ইট চুরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, “বেদন মৃধাকে আদালতে হাজির করার পর তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।”



