সহিংসতার ঘটনায় সতর্ক থাকার আহ্বান, দায়ীদের ছাড় নয়: সরকার

সহিংসতার ঘটনায় সতর্ক থাকার আহ্বান, দায়ীদের ছাড় নয়: সরকার

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, সে বিষয়ে সব নাগরিককে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

গণমাধ্যমে হামলা এবং ময়মনসিংহে সংঘটিত নৃশংসতার সঙ্গে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে সরকার।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকার জানায়, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন উগ্র গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন ও সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন, অগ্নিসংযোগ এবং জানমাল ধ্বংসের সব ধরনের কর্মকাণ্ড সরকার দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানায়। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়, এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্তর্বর্তী সরকার বলছে, দেশের ইতিহাসের এই সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কারণে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না।

নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, এগুলো কেবল রাজনৈতিক কার্যক্রম নয়, বরং একটি জাতীয় অঙ্গীকার। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অঙ্গীকার সেই আদর্শের সঙ্গেও যুক্ত, যার জন্য শহীদ শরিফ ওসমান হাদি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

গণমাধ্যমে হামলার প্রসঙ্গ তুলে সরকার দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো ও নিউ এজ–এর সাংবাদিকদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের ওপর হামলা মানেই সত্য ও স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর হামলা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের পূর্ণ ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেওয়া হয়।

ময়মনসিংহে একজন হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে সরকার বলে, নতুন বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক বা সহিংস অপরাধের কোনো স্থান নেই। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

সবশেষে সরকার নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানায়, সহিংসতা, উসকানি ও ঘৃণার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে শান্তি ও সহনশীলতার পথ বেছে নেওয়ার মাধ্যমে শহীদ হাদির স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে।