তামিমকে ‘ভারতের এজেন্ট’ বলায় ক্ষোভে ফুঁসছে ক্রিকেটাররা

তামিমকে ‘ভারতের এজেন্ট’ বলায় ক্ষোভে ফুঁসছে ক্রিকেটাররা

গাজীপুর কণ্ঠ, খেলাধুলা ডেস্ক : বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম সাবেক জাতীয় অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতের এজেন্ট’ বলেছেন। এ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন দেশের ক্রিকেটাররা। তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলাম এবং মুমিনুল হক ছাড়াও আরও অনেকে প্রতিবাদ করেছেন নেতিবাচক সেই মন্তব্যের।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তামিম বলেছিলেন, আসন্ন আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিসিবির উচিত সব কিছুর আগে ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এরপর নাজমুলের ফেসবুক পোস্টটি ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। পোস্টটির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। পোস্টে তিনি লিখেন, ‘এবার বাংলাদেশের মানুষ নিজের চোখে আরও একজন প্রমাণিত ভারতীয় এজেন্টের আবির্ভাব দেখল।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) শুক্রবার জানায়, তারা বিসিবি সভাপতির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে এবং ওই পরিচালককে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দাবি জানিয়েছে।

কোয়াব বিবৃতিতে লিখে, ‘সাবেক জাতীয় অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের মন্তব্য আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আমরা এতে হতবাক, বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ওপেনার, যিনি ১৬ বছর দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তার সম্পর্কে এমন মন্তব্য সম্পূর্ণ নিন্দনীয়। শুধু তামিমের জন্য নয়, দেশের যেকোনো ক্রিকেটার সম্পর্কে এমন মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য এবং পুরো ক্রিকেট সমাজের জন্য অপমানজনক।’

ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একজন দায়িত্বশীল বোর্ড পরিচালক যখন প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করেন, তখন তা বোর্ড কর্মকর্তাদের আচরণবিধি নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলে। আমরা ইতোমধ্যে বিসিবি সভাপতির কাছে একটি প্রতিবাদপত্র জমা দিয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালককে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে ও জবাবদিহির আওতায় আনতে দাবি জানিয়েছি। আমরা আশা করি বিসিবি সভাপতি দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।’

ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক ক্রিকেটার। তাইজুল লিখেন, ‘সাবেক জাতীয় অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বক্তব্যে আমি হতবাক। একজন বোর্ড পরিচালকের পক্ষ থেকে জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটার সম্পর্কে এমন শব্দচয়ন শুধু রুচিহীনই নয়, সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং আমাদের ক্রিকেট সংস্কৃতির পরিপন্থী। আমি এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। দায়িত্বশীল পদে থেকে প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করা পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা ও আচরণবিধি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। এই কারণে আমি জোরালোভাবে দাবি জানাই, সংশ্লিষ্ট পরিচালক প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইবেন এবং তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।’

মুমিনুল লিখেন, ‘তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের মন্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং দেশের ক্রিকেট সমাজের জন্য অপমানজনক। এমন আচরণ বোর্ডের দায়িত্ব ও নৈতিকতার সরাসরি পরিপন্থী। একজন জ্যেষ্ঠ ক্রিকেটারকে ন্যূনতম সম্মানও দেওয়া হয়নি, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়েছে। এমন মন্তব্য উচ্চ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির ন্যূনতম শিষ্টাচারবোধের অভাব প্রকাশ করে। আমি এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালকের প্রকাশ্য ক্ষমা ও তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’

তাসকিন লিখেন, ‘ক্রিকেট বাংলাদেশের প্রাণ। একজন সাবেক অধিনায়ককে ঘিরে সাম্প্রতিক মন্তব্য অনেককে ভাবিয়েছে। আমি মনে করি, দেশের একজন সাবেক ক্রিকেটারের প্রতি এমন মন্তব্য বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্বার্থে সহায়ক নয়। আমি আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল অবস্থান নেবেন।’

পরে শুক্রবার ফেসবুকে দেওয়া আরেক পোস্টে নাজমুল বলেন, এটি তার ব্যক্তিগত মতামত। সেই পোস্টে এই বিসিবির এই পরিচালক লিখেন, ‘মোস্তাফিজ ইস্যুতে বাংলাদেশ দলের ভারতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় মাননীয় ক্রীড়া উপদেষ্টা আগেই বিষয়টি আঁচ করে বিসিবিকে আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। মাননীয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টাও ক্রীড়া উপদেষ্টার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। এই অবস্থায় দেশের মানুষের অনুভূতির বিরুদ্ধে গিয়ে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ হাজার রান করা এক কিংবদন্তি ক্রিকেটার এখন ভারতের পক্ষে ব্যাট করছেন। এটি সম্পূর্ণই আমার ব্যক্তিগত মতামত। দয়া করে এটিকে অন্য কোনোভাবে নেবেন না।’