কালীগঞ্জে ব্যবসায়ী হত্যায় মামলা, কারাগারে তিন আসামি

নিজস্ব সংবাদদাতা : কালীগঞ্জে দোকানকর্মীকে মারধরের ঘটনায় বাধা দিতে গেলে ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে নিহতের ছেলে লীমন ঘোষ বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন।
নিহত ব্যবসায়ীর নাম লিটন চন্দ্র ঘোষ ওরফে কালি (৫০)। তিনি চান্দাইয়া এলাকার নির্মল চন্দ্র ঘোষ ওরফে কালুর ছেলে। পৌরসভা সংলগ্ন এলাকায় তার মালিকানাধীন ‘বৈশাখী সুইটমিট অ্যান্ড হোটেল’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন কালীগঞ্জ পৌরসভার সংলগ্ন এলাকার ভাড়াটিয়া মাসুম মিয়া (২৫), তার মা মাজেদা বেগম (৪২) এবং মাজেদা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী স্বপন মিয়া (৪৮)।

এজাহারে বলা হয়েছে, নিহত লিটন চন্দ্র ঘোষ একজন হৃদরোগী ছিলেন। আসামিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বিরোধ চলছিল। শনিবার বেলা আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্ত মাজেদা বেগম লিটন চন্দ্র ঘোষের দোকানে নাস্তা কিনতে যান এবং অকারণে উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন। এ সময় দোকানের কর্মী অনন্ত দাস (১৮) তাকে শান্তভাবে কথা বলতে অনুরোধ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ শুরু করেন। পরে মাজেদা বেগম মোবাইলে ফোন করে ছেলে মাসুম মিয়া ও স্বামী স্বপন মিয়াকে ডেকে আনেন। তারা দোকানে এসে অতর্কিতভাবে অনন্ত দাসকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করেন। সে সময় লিটন চন্দ্র ঘোষ বাধা দিতে গেলে তাকেও এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত স্বপন মিয়া দোকান থেকে একটি স্টিলের খুন্তি নিয়ে লিটন চন্দ্র ঘোষের নাকে আঘাত করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত মাসুম মিয়া তার বুকের বাম পাশে সজোরে ঘুষি মারলে হৃদরোগী লিটন চন্দ্র ঘোষ ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সময় দোকানের কর্মী অনন্ত দাস, সম্রাট চন্দ্র দাস, বিপ্লব চন্দ্র দাস, সুমন দাস এবং নিহতের ছোট মেয়ে পূজা রানী ঘোষের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করেন। সে সময় উত্তেজিত জনতা মাসুম মিয়া ও মাজেদা বেগমকে সামান্য মারধর করলে তারা আহত হন। পরে লিটন চন্দ্র ঘোষকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত কর্মী অনন্ত দাসকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক তিনজনকে হেফাজতে নেয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসলাম খান বলেন, নিহতের ছেলে বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আরো জানতে…



