শরিকদের জয়ী করাই বিএনপির চ্যালেঞ্জ

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট শরিকদের জয়ী করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপি। শরিকদের ১৭টি আসনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি আসনেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন। এতে ভোটের মাঠে কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে শরিকদের। এর সুবিধা পেতে পারে জামায়াতে ইসলামী।
দলীয় সূত্র জানায়, দলের পক্ষ থেকে শরিক দলের প্রার্থীরা জয়লাভ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বিএনপির মধ্যে আলোচনা আছে। পাঁচ-সাতজন ছাড়া বাকি শরিকদের নিজস্ব কোনো ভোটব্যাংক নেই। এ ছাড়া ছোট দলগুলোর প্রতীক ভোটারদের কাছে অনেকটাই অপরিচিত। নিজস্ব প্রতীকে যারা ভোট করছেন তাদের জয় পাওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছে হাইকমান্ড।
জানা গেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের কারণে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে বিএনপিতে যোগদান করেছেন ৮ জন নেতা। বাকি ৯ জন নিজস্ব দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলের পক্ষ থেকে হাইকমান্ড বারবার সতর্ক করলেও সাড়া না দিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীরা ভোটের মাঠে রয়ে গেছেন। জোট শরিকদের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার জন্য জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে হাইকমান্ড থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এতে শরিকদের জয়ের পথ কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রত্যাহার করা বা সরে দাঁড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। হয়তো কিছুটা সময় লাগবে। যারা সরে দাঁড়াবে না, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে। দলের পক্ষ থেকে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের শরিকদের সঙ্গে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জোটের একাধিক নেতা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কার করা খুব জরুরি। তারা জোট প্রার্থী বা ধানের শীষ প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের কুৎসা রটাচ্ছেন। শুধু প্রার্থী নয়, দলীয় নেতা-কর্মীদের তারা নানাভাবে হয়রানি করছেন। নেতা-কর্মীদের ধানের শীষের প্রচারে অংশ নিতে বাধা দিচ্ছেন। তাদের জন্য শরিকদের ভোট করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
দলীয় প্রতীকে ভোট করছেন যারা
বগুড়া-২ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি কেটলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন। এই আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মীর শাহে আলম, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান এবং জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি শরিফুল আলম জিন্নাহ। এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা। এদিকে, মান্নার আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় এককভাবে ১২টি আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে নাগরিক ঐক্য।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থর পৈতৃক আসন ভোলায় তার নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। তার বাবা জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত নাজিউর রহমান মঞ্জুর ভোলার জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির খারাপ ফলাফলের মধ্যেও জোটের প্রার্থী হিসেবে ভোলা-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন পার্থ। এবার তিনি এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে পার্থকে সমর্থন দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর। পার্থর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের মো. ওবায়দুর রহমান। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মধ্যে সম্ভাব্য ভোট কাটাকাটিতে এগিয়ে রয়েছেন পার্থ।
পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তবে নুরের বিরুদ্ধে ভোটের মাঠে আছেন বহিষ্কৃত বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন ও জামায়াতের শাহ আলম। সম্প্রতি দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা কমিটিও বাতিল করেছে বিএনপি। তারপরও স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বড় অংশই হাসান মামুনের সঙ্গে কাজ করছেন।
ঢাকা-১২ আসনে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে। তিনি কোদাল প্রতীকে নির্বাচন করবেন। এই আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব। নির্দেশ অমান্য করে ভোটে অংশ নেওয়ায় নীরবকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাইফুল হকের নিকটতম আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের সাইফুল আলম খান মিলন। এই আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। দলীয় প্রতীক মাথাল মার্কায় নির্বাচন করছেন তিনি। এই আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী মো. মহসীন ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. সাইদুজ্জামান কামাল। তবে দলের নির্দেশনা মেনে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল খালেক ও স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা সাকির পক্ষে কাজ করছেন। বিএনপির নেতা-কর্মীদের মন জয় করে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামানোর চ্যালেঞ্জেও জয়ী হয়েছেন সাকি।
বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী ৭ নেতা
বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তিনি চট্টগ্রাম ছাত্রদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক এবং চট্টগ্রাম মহানগরী বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন তিনি। প্রশ্নবিদ্ধ ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আনোয়ার হোসেন খানের ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪৩৮ ভোটের বিপরীতে শাহাদাত হোসেন সেলিম ৩৮ হাজার ৮৯২ ভোট পেয়েছিলেন। সেলিমের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির মাহবুব আলম ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জাকির হোসেন পাটোয়ারী।
স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলছেন, সেলিমের সঙ্গে জেলার নেতা-কর্মীরা আছেন। সাধারণ ভোটাররাও তাকে গ্রহণ করেছেন। অন্য প্রার্থীদের তুলনায় এগিয়ে আছেন সেলিম।
এ বিষয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সবাই ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন। ভোটারদের কাছ থেকেও সাড়া পাচ্ছি। জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।’
বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য ড. রেদোয়ান আহমেদ। ২০০১ সালে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৮ সালেও বিএনপি জোটের প্রার্থী ছিলেন তিনি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিদ্রোহী প্রার্থী চান্দিনা উপজেলা বিএনপি সভাপতি আতিকুল আলম শাওন এবং জামায়াতের মাওলানা মোশাররফ হোসেন। এই আসনে রেদোয়ান আহমেদ এগিয়ে আছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। তাদের মতে, রেদোয়ান আহমেদ শক্তিশালী প্রার্থী। বিএনপির নেতা-কর্মীদের আরও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।
বিএনপিতে যোগ দিয়ে রেজা কিবরিয়া হবিগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচন করছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া ও জামায়াতের জোটের সিরাজুল ইসলাম। ২০১৮ সালের জোটের প্রার্থী থাকায় ভোটের মাঠে কিছুটা সুবিধা পাচ্ছেন রেজা কিবরিয়া।
ঝিনাইদহ বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা বিএনপিতে যোগদান করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী সহসভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, জামায়াতের রমজান আলী ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত কাইয়ুম। স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বড় অংশই হুদার সঙ্গে মাঠে কাজ করছেন। এই আসনে অন্যদের চেয়ে হুদা এগিয়ে আছেন।
এহসানুল হুদা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ভোটারদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আশা করি, ধানের শীষের বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান। তিনি সম্প্রতি বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও জামায়াতের মাওলানা আবু তালিব। রাশেদকে প্রার্থী ঘোষণার পর স্থানীয় বিএনপিতে বিভক্তি দেখা গেলেও পরে তা অনেকটা মীমাংসা হয়ে যায়।
নড়াইল-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনেও জোটের প্রার্থী ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম ও জামায়াতের আতাউর রহমান। এই আসনে জেলার বিএনপির নেতা-কর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত। ফরহাদ ও মনিরুল ইসলামের মধ্যে মূল লড়াই হতে পারে।
এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘জেলার নেতা-কর্মীদের একটি অংশ তার পক্ষে কাজ করছে। ধানের শীষ প্রতীকের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।’
ঢাকা-১৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন এনডিএমের ববি হাজ্জাজ। বিএনপি নেতা-কর্মীরাও তাকে বিজয়ী করতে মাঠে নেমেছেন। এই আসনে জামায়াত জোটের হেভিওয়েট প্রার্থী খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। ববিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ছাড়া ৫ আসনেই বিদ্রোহী
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের দুই অংশকে পাঁচটি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। খেজুরগাছ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। সিলেট-৫ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন) এবং জামায়াত জোটের খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান। জেলা-উপজেলা বিএনপির নেতারা উবায়দুল্লাহ ফারুকের পক্ষে কাজ করলেও ভোটে হার জিতে মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) বড় ভূমিকা পালন করবেন।
নীলফামারী-১ আসনে জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়ার ভাগিনা শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের বাবা অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী ও জামায়াতের মাওলানা আব্দুস সাত্তার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। তিনি খেজুর গাছ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক (বহিষ্কৃত) রুমিন ফারহানা এবং ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি (বহিষ্কৃত) ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে এবং জামায়াত জোটের প্রার্থী এনসিপির আশরাফ উদ্দিন। স্থানীয় বিএনপির বড় একটি অংশ প্রকাশ্যে রুমিন ফারহানার পক্ষে কাজ করছেন। রুমিন ফারহানা ও হাবিবের মধ্যে মূল লড়াই হতে পারে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনেও বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তের মনির হোসেন কাসেমী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন এবং জামায়াতের জোটের এনসিপির আবদুল্লাহ আল আমিন। এই আসনে দুই বিদ্রোহী প্রার্থীই জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দেবেন।
এদিকে জমিয়তের আরেকাংশের মুফতি রশিদ বিন ওয়াক্কাস ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন যশোর-৫ আসন থেকে। তিনি ২০১৮ সালেও জোটের প্রার্থী ছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে আছেন মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন ও জামায়াতের গাজী এনামুল হক। স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি অংশ ইকবালের সঙ্গে থাকায় ভোটের সমীকরণে পাল্টে যেতে পারে।
বিদ্রোহী প্রার্থী শহীদ ইকবাল হোসেন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপিকে গুছিয়ে রেখেছি। জেল জুলুম মামলা সহ্য করেছি। বিএনপি কর্মীরা আমার সঙ্গে আছে, জয় আমারই হবে।
সূত্র: খবরের কাগজ



