Uncategorized

ইউরোপীয় সেনাবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ ঘোষণা ইরানের

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসকে (আইআরজিসি) ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ ঘোষণার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ এ ঘোষণা দেন। খবর আনাদোলুর।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আইআরজিসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে তৈরি হওয়া যেকোনো পরিস্থিতির দায়ও ইইউকে নিতে হবে।

এদিন সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে বিপ্লবী গার্ডদের পোশাক পরে সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেন স্পিকার গালিবাফ।

তিনি জানান, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার পাল্টা আইনে নির্ধারিত ব্যবস্থার ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ইরানি জাতি ও স্বাধীন দেশগুলোকে ভয় দেখানোর জন্য জায়নবাদীরা গণমাধ্যম ব্যবহার করে মানসিক যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করতে চাচ্ছে। তবে ইরানিরা আইআরজিসিকে নিজেদের অংশ মনে করে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ইরানের বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুর দমন-পীড়নের জবাবে আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ইইউ।

ইউরোপীয় জোটের এই সিদ্ধান্তে এখন চাপ বাড়ছে যুক্তরাজ্যের ওপর, যারা এখনও আইআরজিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করেনি। তবে ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছে দেশটি।

ইউরোপের এই সিদ্ধান্তকে ‘বড় কৌশলগত ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্সে লেখেন, এই মুহূর্তে বহু দেশ সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে, অথচ ইউরোপ আগুনে ঘি ঢালছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত আইআরজিসি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি আনুগত্যশীল একটি অভিজাত প্যারামিলিটারি বাহিনী।

পৃথক নৌ ও বিমান বাহিনীসহ এর স্থলবাহিনীর সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে, কানাডা ২০২৪ সালে এবং অস্ট্রেলিয়া ২০২৫ সালে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button