বাবার কাছে নালিশ দেওয়ার ভয়ে ছোট ভাইকে হত্যা, বড় ভাইসহ দুজন গ্রেপ্তার

বিশেষ প্রতিনিধি : বাবার কাছে নালিশ দিয়ে দেবে বলায় আপন ছোট ভাইকে গলা টিপে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগে বড় ভাইসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (০৪ মার্চ) গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন বুধবার তাঁর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
নিহত আবদুর রাহিম (১৩) গাজীপুর সদর উপজেলার জয়দেবপুর থানার ডগরী নয়াপাড়া গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় নয়াপাড়া এবাদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত।
গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন নিহতের বড় ভাই মো. আলামিন হোসেন (২৩) এবং একই উপজেলার ডগরী খাসপাড়া গ্রামের কাজী নজরুল ইসলামের ছেলে আশিক আহমেদ (২০)।

পুলিশ সুপার জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আবদুর রাহিম নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় তার বাবা জয়দেবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি একই থানার বিকেবাড়ি এলাকায় একটি রিসোর্টের পাশে শালবনের ভেতরে গর্তে মাটিচাপা অবস্থায় ১৩ থেকে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে হাসপাতাল মর্গে গিয়ে লাশের পরিহিত পোশাক দেখে রাহিমের বাবা সেটি তাঁর ছেলে বলে শনাক্ত করেন। পরে এ ঘটনায় মামলা হয়।

তিনি আরও জানান, বিশ্বস্ত সূত্র ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। গত ৩ মার্চ ভোরে মির্জাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলামিন ও আশিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, আবদুর রাহিম বাবার কাছে মুঠোফোন কিনে দেওয়ার বায়না ধরে চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল। বিষয়টি দেখে বড় ভাই আলামিন তাকে ভয় দেখাতে বন্ধু আশিক ও সুমনকে নিয়ে পরিকল্পনা করে। গত ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তারা রাহিমকে শালবনের ভেতরে নিয়ে যায় এবং মাফলার দিয়ে গজারী গাছের সঙ্গে বেঁধে মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে মারধর করে। পরে স্কচটেপ খুলে দিলে রাহিম বাবার কাছে সব বলে দেবে বলায় আলামিন তাকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। একপর্যায়ে সে রাহিমকে মাটিতে ফেলে গলা টিপে হত্যা করে এবং ঘটনাস্থলের পাশেই গর্ত করে লাশ মাটিচাপা দেয়। রাহিমের গায়ের জ্যাকেটটি বড়চালা এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু খায়ের, মো. মোজাম্মেল হোসেন, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. মাহবুবুর রহমান ও লিপি রানী সিনহা এবং জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।



