গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টা ও কর্মকর্তারা ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন — এবং এই অন্তর্দ্বন্দ্বই ট্রাম্পের ক্রমবদল হওয়া বক্তব্যের পেছনে মূল কারণ বলে খবর দিয়েছে রয়টার্স।
রয়টার্স বলছে, হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, একদিকে অর্থনৈতিক উপদেষ্টারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করছেন, অন্যদিকে রিপাবলিকান হকপন্থী সিনেটর ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে সওয়াল করছেন।
বুধবার কেন্টাকিতে এক জনসভায় ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হয়েছে। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই তিনি সুর পাল্টে বলেন, “আমরা কি তাড়াতাড়ি চলে যেতে চাই? কাজটা শেষ করতে হবে।
এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বাজার দুদিকেই দুলছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের কানের কাছে মূলত তিনটি পক্ষ সক্রিয়।
প্রথম পক্ষ — অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক পরামর্শদাতারা: ট্রেজারি বিভাগ, ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিল এবং চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস সহ শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টারা চাইছেন ট্রাম্প সংকীর্ণ অর্থে বিজয় ঘোষণা করুন এবং অভিযান সীমিত ও প্রায় সমাপ্ত বলে সংকেত দিন।
দ্বিতীয় পক্ষ — হকপন্থী রিপাবলিকানরা: সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও টম কটন এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মার্ক লেভিন ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস না করা পর্যন্ত সামরিক অভিযান জারি রাখার দাবিতে অনড়।
তৃতীয় পক্ষ — পপুলিস্ট ঘাঁটির কণ্ঠস্বর: কৌশলবিদ স্টিভ ব্যানন এবং টেলিভিশন উপস্থাপক টাকার কার্লসন সরাসরি ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া উচিত হবে না।
এক ট্রাম্প উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তিনি হকদের বোঝাচ্ছেন অভিযান চলছে, বাজারকে বোঝাচ্ছেন যুদ্ধ শেষ হতে পারে, আর তাঁর সমর্থকদের বোঝাচ্ছেন উত্তেজনা বাড়বে না।”
এই সপ্তাহে ট্রাম্প বারবার অভিযানকে “স্বল্পমেয়াদি অভিযান” বলে উল্লেখ করেছেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, মায়ামিতে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সামনে বক্তৃতার আগে ট্রাম্পকে একটি বার্তা-কৌশলপত্র দেওয়া হয়েছিল, যেখানে যুদ্ধকে স্বল্পমেয়াদি ও সীমাবদ্ধ হিসেবে উপস্থাপনের পরামর্শ ছিল।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়, সেখানে ইরান সম্প্রতি একাধিক ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। জ্বালানির দাম যদি মার্কিনিদের জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠে, তাহলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের সংকীর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিপদে পড়তে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দ্রুত আটক করার সাফল্য থেকে ট্রাম্প ভুল ধারণা পেয়েছিলেন যে ইরানেও একই কৌশল কাজ করবে। কিন্তু ইরান অনেক বেশি সুসজ্জিত এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষ।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট এই প্রতিবেদনকে “বেনামি সূত্রের গুজব ও অনুমান” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।