রয়টার্স : ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে আরও হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় বসতে তিনি এখনো প্রস্তুত নন। চলমান এই যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ অভিযান তৃতীয় সপ্তাহে পড়েছে। শনিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন হামলায় খার্গ দ্বীপের বড় অংশ ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গেছে। তবে সেখানেই থেমে না থেকে তিনি যোগ করেন, ‘আরও মজার জন্য কয়েকবার আঘাত করা হতে পারে।’
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। নতুন এই মন্তব্য সেই অবস্থান থেকে স্পষ্ট সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। এই সংঘাতে এ পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের নাগরিক।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবহন হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) গত সপ্তাহে জানিয়েছে, এই সরু প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল বাজারে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মার্চ মাসে বৈশ্বিক সরবরাহ প্রায় ৮ শতাংশ কমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে প্রণালিটি কার্যত বেশিরভাগ জাহাজের জন্য বন্ধ হয়ে আছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রণালিটি বন্ধই থাকবে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশকে প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘যেসব দেশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পায়, তাদেরই এই পথ রক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে এবং আমরা অনেক সাহায্য করব।’
ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সোমবারের বৈঠকে লোহিত সাগরে হুতি হামলা ঠেকাতে পরিচালিত ‘অ্যাসপাইডস’ নৌ অভিযানের পরিসর হরমুজ প্রণালি পর্যন্ত বাড়ানো নিয়ে আলোচনা করবেন।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট আশা প্রকাশ করেছেন, ‘আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে’ যুদ্ধ শেষ হবে এবং সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে দাম কমে আসবে। তবে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে এবং আগামী সপ্তাহে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাহাজ জ্বালানি সরবরাহের কেন্দ্র ফুজাইরাহ বন্দরে শনিবার হামলার পর সাময়িক বন্ধ থাকলেও রোববার তেল লোডিং কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড রোববার ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন তিনটি ঘাঁটিতে আরও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা ১০টি হামলা প্রতিহত করেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান পশ্চিম ইরানে আরও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। মধ্যবর্তী শহর ইসফাহানে একটি কারখানায় বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা খামেনি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং পরিস্থিতি নিজেই সামলাচ্ছেন। এর আগে ট্রাম্প এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।