গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো আলোচনা চলছে না বলে জানিয়েছেন তেহরানের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের শক্তিশালী সামরিক হুমকির মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি থেকে পিছু হটেছেন।
সোমবার (২৩ মার্চ) তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বিবৃতিতে ওই কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের মধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেশ কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে তেহরানে বার্তা পাঠানো হয়েছে। জবাবে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত দেশটি আত্মরক্ষা অব্যাহত রাখবে।
কর্মকর্তা আরও বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর আর্থিক বাজারে চাপ এবং বন্ড বাজারে অস্থিরতা ট্রাম্পের পশ্চাদপসরণের আরেকটি বড় কারণ। তাঁর মতে, চলমান মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে না, জ্বালানি বাজারেও স্থিতিশীলতা আসবে না।
এর আগে সোমবার ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দাবি করেন, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে “অত্যন্ত ভালো ও ফলপ্রসূ” আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোয় সম্ভাব্য সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখতে তিনি প্রতিরক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সায়্যেদ আলী খামেনেই এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু করে। হামলায় ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং উল্লেখযোগ্য হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলি অবস্থান এবং আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ