গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মিত্রদের সহায়তা করতেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে।
স্থানীয় সময় বুধবার রাতে এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমরা মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল নই, তাদের কিছুরই প্রয়োজন নেই। আমরা সেখানে আছি আমাদের মিত্রদের সাহায্য করতে।’
তাঁর এই বক্তব্য যুদ্ধ শুরু থেকেই ঘুরেফিরে আসা প্রশ্নকে আবার সামনে এনেছে — ইসরায়েলের চাপেই কি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাচ্ছে?
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুদ্ধের শুরুতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইসরায়েলের উদ্বেগই যুক্তরাষ্ট্রকে এই সিদ্ধান্তে নিয়ে এসেছে। পরে অবশ্য প্রশাসন সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। ট্রাম্প তাঁর ভাষণে ইসরায়েল, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ট্রাম্পের বক্তব্যে ওমানের নাম ছিল না। দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করছিল এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন। উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ওমানই একমাত্র, যারা মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রকাশ্য নিন্দা করেছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, ক্ষমতার পটপরিবর্তন তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। তবে সঙ্গে সঙ্গেই স্বীকার করেন, ইসরায়েলের হাতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই ও সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি নিহত হওয়ায় বাস্তবে সেটাই ঘটে গেছে। বর্তমানে খামেনেইয়ের পুত্র মোজতাবা সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁকে এখনো প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
‘রাতে ইরানের নৌবাহিনী নেই, বিমান বাহিনী ধ্বংসস্তূপ, বেশিরভাগ নেতা নিহত’ — এভাবেই ৩২ দিনের যুদ্ধের হিসাব টানেন ট্রাম্প।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, ইরান সেটি মার্কিন ও ইসরায়েলসংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলোর জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে প্রণালি ‘স্বাভাবিকভাবেই খুলে যাবে’। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে তিনি ‘সাময়িক’ বললেও কবে নাগাদ স্বস্তি মিলবে, তা স্পষ্ট করেননি।
এ ছাড়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মঙ্গলবার বলেছিলেন, ইরানের কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি আঘাত হানার সক্ষমতা ছিল না — যা ট্রাম্পের ‘আমেরিকাকে রক্ষার’ যুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
৩২ দিনের এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত উপসাগরীয় দেশগুলোতে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল তাদের হতাহতের পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে না।
ট্রাম্প বলেন, ‘মূল কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা সম্পন্নের কাছাকাছি।’ তবে যুদ্ধ কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি তিনি। বরং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহে ইরানের ওপর ‘অত্যন্ত কঠোর আঘাত’ হানা হবে।