তাসনিম নিউজ এজেন্সি
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেছেন, আমেরিকার অতিরিক্ত দাবির কারণে এই বৈঠকে কোনো সমঝোতা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, কূটনীতির পথ কখনো বন্ধ হয় না।
বাগাই জানান, কিছু বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হলেও দুই থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে মতভেদ রয়ে গেছে। তিনি বলেন, এই দফার আলোচনা গত এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ ছিল — মোট ২৪ থেকে ২৫ ঘণ্টা ধরে চলেছে।
মুখপাত্র বলেন, “চল্লিশ দিনের যুদ্ধের পর অবিশ্বাস ও সন্দেহের পরিবেশে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুরু থেকেই একটি বৈঠকে চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রত্যাশা রাখা স্বাভাবিক ছিল না। কেউ তা আশাও করেননি।”
তিনি আরও বলেন, আলোচনার সাফল্য নির্ভর করে প্রতিপক্ষের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার ওপর এবং ইরানের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থ মেনে নেওয়ার ওপর।
বাগাই জানান, এবারের আলোচনায় হরমুজ প্রণালীর মতো নতুন কিছু জটিল বিষয়ও যুক্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে ইরানের কূটনৈতিক সংস্থাকে দেশের জনগণের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় থাকতে হবে।
এই বৈঠকে মধ্যস্থতার ভূমিকায় থাকা পাকিস্তানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ইরানের মুখপাত্র। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের আতিথেয়তার প্রশংসা করেন তিনি। বাগাই বলেন, ইরান, পাকিস্তান ও আঞ্চলিক বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।