কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী

তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কারাগার প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

জুলাই আন্দোলনের সময়কার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। 

রবিবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।

কারাগারে জামিননামা পৌঁছানোর পর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাঁকে মুক্ত করা হয়। এরপর তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কারাগার প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। 

সহকারী কারা মহাপরিদর্শক জান্নাত উল ফরহাদ এবং মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোছা. কাওয়ালিন নাহার বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

গত ৭ এপ্রিল ভোরে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের বাসা থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সেদিন পুলিশের পক্ষ থেকে দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকেও জামিনের আবেদন করা হয়। আদালত উভয় আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পাঁচ দিনের মাথায় আজ জামিনে মুক্তি পেলেন তিনি।

রবিবার দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জাকির হোসাইন শুনানি শেষে ৫০ হাজার টাকার মুচলেকায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত তাঁকে জামিন দেন।

আদেশে বিচারক বলেন, “তিনি একজন সাবেক স্পিকার। ঘটনার সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন অসুস্থ মানুষ। ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করা হলো।”

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ইবনুল কাওসার বলেন, মামলার এজাহারে শিরীন শারমিন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই, শুধু তাঁর নামটুকুই রয়েছে। তিনি আরও জানান, শিরীন শারমিন হৃদ্‌রোগসহ একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত। ২০১৬ সালে হার্ট অ্যাটাকের পর থেকে প্রতি ছয় মাসে একবার সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিতে হয়। তবে ২০২৪ সালের ১১ জুনের পর আর বিদেশে যেতে পারেননি। চোখের রেটিনাপ্যাথিসহ ১০ ধরনের ওষুধ সেবন করতে হয়, যার সবগুলো দেশে পাওয়া যায় না।

অন্যদিকে, জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, শিরীন শারমিন মামলার এজাহারনামীয় আসামি এবং তদন্ত চলমান থাকায় জামিন পেলে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন। পরে আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিজবাহ জানান, অন্য কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা ছিল না।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে আশরাফুল ওরফে ফাহিমের চোখে গুলি লাগে এবং তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৫ মে আশরাফুল শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১১৫ থেকে ১২০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।

২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে আসেন শিরীন শারমিন। সে সময় তাঁকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। নবম সংসদের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর তৎকালীন স্পিকার আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ায় স্পিকার পদ শূন্য হয়। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। এরপর তিন মেয়াদে টানা স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরদিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদ ভেঙে দেন। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে দেওয়া হলেও পরবর্তী স্পিকারের শপথ পর্যন্ত স্পিকারের পদ শূন্য হয় না। তবে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ২৭ দিনের মাথায়, ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন। এরপর থেকে তিনি আর প্রকাশ্যে আসেননি।