হাসমত আলী, গাজীপুর
বাংলাদেশে সয়াবিনের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন। অথচ দেশে উৎপাদন হয় মাত্র ৩ থেকে ৪ লাখ মেট্রিক টন—অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ২৫ শতাংশেরও কম। এই ঘাটতি পূরণে প্রতি বছর ৫৬ হাজার কোটি টাকার সয়াবিন ও সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানি করতে হচ্ছে। এই খাতকে এগিয়ে নিতে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত কনসোর্টিয়াম গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) ‘সয়াবিন গবেষণা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
কর্মশালায় সয়াবিনের পুষ্টিগুণ, উৎপাদন সম্ভাবনা, গবেষণার অগ্রগতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বক্তারা জানান, বর্তমানে নোয়াখালী, ভোলা ও লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মাত্র প্রায় ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ হয়। সয়াবিন চাষের পরিধি বাড়ানো গেলে আমদানি কমিয়ে বরং রপ্তানিমুখী করা সম্ভব, যা দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
গাকৃবির এগ্রোমেটিওরোলজি বিভাগের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সয়াবিনে প্রায় ৪০ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে, যা মানবদেহ ও প্রাণিখাদ্যের পুষ্টি চাহিদা পূরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এত গুণাগুণ থাকা সত্ত্বেও দেশে সয়াবিনের সহজলভ্যতা এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।’ এই খাতকে এগিয়ে নিতে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত কনসোর্টিয়াম গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
অ্যাগ্রোনমি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং বাংলাদেশে সয়াবিন গবেষণার পথিকৃৎ ড. এম. আবদুল করিমের সভাপতিত্বে কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. ময়নুল হক, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ এবং সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া বাংলাদেশের সাপ্লাই চেইন প্রধান মোহাম্মদ মজিবুল হক।
কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. এ. মান্নান ভেজিটেবল সয়াবিনের ওপর তথ্যবহুল উপস্থাপনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা গত এক বছরে পরিচালিত সয়াবিন গবেষণার ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কৌশল নিয়ে বিভিন্ন উপস্থাপনা পেশ করেন।
অনুষ্ঠানে গাকৃবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
গাকৃবির জনসংযোগ বিভাগের সেকশন অফিসার মো. রনি ইসলাম জানান, সয়াবিন গবেষণার সাম্প্রতিক অগ্রগতি, উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ গবেষণার দিকনির্দেশনা নিয়ে গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময় এবং ফলপ্রসূ আলোচনার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়। তিনি আরও জানান, গাকৃবি এ পর্যন্ত ছয়টি ভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সয়াবিনের জাত উদ্ভাবন করেছে।