পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়: ঢাকা সফরে আসছে শেহবাজ-আসিম মুনির

পাকিস্তান বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি আধুনিকায়নে সহায়তা করতে পারে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়: ঢাকা সফরে আসছে শেহবাজ-আসিম মুনির

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির শিগগিরই বাংলাদেশে তিন দিনের সরকারি সফরে আসতে পারেন বলে জানা গেছে।

সফরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে চলেছে।

শুক্রবার (১৫ মে) পাকিস্তান অবজারভার এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রস্তাবিত সফরটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পরপরই হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সময়টি কোনো কাকতাল নয়—বরং এটি সুচিন্তিত আঞ্চলিক কূটনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে।

ঢাকায় যে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে, তার পরিধি হবে ব্যাপক: বাণিজ্য ও শিল্প সহযোগিতা — দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানো ও যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা অন্বেষণ, আঞ্চলিক যোগাযোগ — সড়ক, সমুদ্রপথ ও বাণিজ্যিক রুট সম্প্রসারণ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা — সামরিক প্রশিক্ষণ, জনবল বিনিময় ও নিরাপত্তা সমন্বয়।

তবে সবচেয়ে আলোচিত ও সম্ভাব্য বিতর্কিত বিষয়টি হলো প্রতিরক্ষা সহযোগিতা—যা ১৯৭১ সালের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে সীমিত থেকেছে।

একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পাকিস্তান বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি আধুনিকায়নে সহায়তা করতে পারে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

শুধু অবকাঠামো নয়, ড্রোন প্রযুক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত উন্নত সামরিক ক্ষেত্রেও কারিগরি সহায়তার বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে সূত্র জানায়।

২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে দুই দেশের সম্পর্কে উষ্ণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। শেখ হাসিনার বিদায়ের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ঢাকার বৈদেশিক নীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়, ভ্রমণ সহজীকরণ, সমুদ্রপথে বাণিজ্য পুনরুজ্জীবন এবং বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় নতুন চুক্তি সই করেছে।

সফর সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো কোনো পক্ষ প্রকাশ করেনি।