গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বেইজিং সফর থেকে ফিরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প — কিন্তু বড় কোনো চুক্তি ছাড়াই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে বেইজিং সফর করেছেন। দুই দিনের আলোচনায় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক হলেও বড় কোনো অগ্রগতি আসেনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত বছরের তুমুল বাণিজ্যযুদ্ধের পর দুই দেশ এখন আবার তাদের পুরনো কৌশলগত প্রতিযোগিতায় ফিরে গেছে।
ট্রাম্প এই সফরে টেসলার ইলন মাস্ক ও এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াংসহ আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাণিজ্যিক ফলাফল ছিল হতাশাজনক।
বোয়িংয়ের বিমান বিক্রির একটি চুক্তির কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প — ২০০টি জেট, যেখানে প্রত্যাশা ছিল ৫০০টির। ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম চীন সফরে ২৫০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছিল — এবারের তুলনায় সেটি ছিল অনেক বেশি।
এনভিডিয়ার উন্নত এইচ-২০০ এআই চিপ চীনে বিক্রির বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইরান যুদ্ধ বন্ধে চীনের সহায়তা চাওয়ার বিষয়েও কোনো প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি মেলেনি।
ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের চীন বিশেষজ্ঞ স্কট কেনেডি বলেন, এক বছর আগে যেখানে ১৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল এবং চীনকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা চলছিল, সেখান থেকে এখন দুই দেশ আবার স্থিতিশীলতায় ফিরেছে — এটিকে এক অর্থে ‘পাল্টা বিপ্লব’ বলা চলে।
সাবেক মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ওয়েন্ডি কাটলার এই সফরের অর্থনৈতিক ফলাফলকে বলেছেন “প্রত্যাশার অনেক নিচে।”
ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের চীন বিশেষজ্ঞ ক্রেইগ সিংলটন বলেন, “এই সম্মেলন স্থিতিশীলতার ছবি তুলে ধরেছে, কিন্তু অচলাবস্থা যেমন ছিল তেমনই রয়ে গেছে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সফরে তুলনামূলকভাবে চীনই বেশি লাভবান হয়েছে। শি জিনপিং দুই দেশের সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন — তিনি এর নাম দিয়েছেন “গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতা।”
দুর্বল অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি সামলাতে ব্যস্ত চীনের জন্য এই সফর একটি স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। পাঁচ মাস পর শুল্ক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে — তখন কী হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
বেইজিংয়ের রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছুই শৌজুন বলেন, এই সম্মেলন প্রমাণ করেছে যে দুই দেশ এখন আর সহযোগিতার ‘সোনালি যুগে’ ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে না — বরং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিযোগিতাকে বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিচ্ছে।
শি জিনপিং এ বছরের শেষের দিকে হোয়াইট হাউস সফরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সেই সফরে আরও কিছু বাণিজ্যিক চুক্তি আসতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।