ইসরায়েলে গভীর রাতে বিশাল বিস্ফোরণ, আতঙ্কে বাসিন্দারা

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার এই শহরের মানুষ এমনিতেই উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।

ইসরায়েলে গভীর রাতে বিশাল বিস্ফোরণ, আতঙ্কে বাসিন্দারা

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান বলছে এটি ‘পূর্বপরিকল্পিত পরীক্ষা’ — তবে এলাকাবাসী জানান, কোনো পূর্বসতর্কতা দেওয়া হয়নি।

শনিবার গভীর রাতে ইসরায়েলের বেইত শেমেশ শহরের কাছে আকাশ আলো করে এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে। আগুনের গোলা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা।

সম্প্রতি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার এই শহরের মানুষ এমনিতেই উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান টোমার পরে এক বিবৃতিতে জানায়, বিস্ফোরণটি ছিল একটি “পূর্বপরিকল্পিত পরীক্ষা, যা পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে।” কর্তৃপক্ষকে আগেই জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।

তবে প্রতিষ্ঠানটির এক নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান-কে নিশ্চিত করেন যে এটি একটি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ছিল — তবে রাত সাড়ে এগারোটায় কেন এই পরীক্ষা চালানো হলো, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ১২ সূত্রের বরাত ছাড়াই জানিয়েছে, পরীক্ষাটিতে রকেটের জ্বালানি ব্যবহার করা হয়েছে — যেসব রকেটের পাল্লা হাজার হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

উল্লেখ্য, টোমার অ্যারো আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন তৈরি করে থাকে। ২০২১ সালেও এই কারখানায় একইরকম একটি বিশাল বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তখনও প্রতিষ্ঠানটি একই দাবি করেছিল।

জেরুজালেমের কাছে অবস্থিত বেইত শেমেশের বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণের আগে তাদের কোনো পূর্বসতর্কতা দেওয়া হয়নি। চলতি বছরের ১ মার্চ ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি এই শহরে আঘাত করে — সেই হামলায় নয়জন নিহত ও ৪০ জনেরও বেশি আহত হন। ফলে হঠাৎ এই বিস্ফোরণে বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পটভূমি হিসেবে জানা যাচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে — লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা। জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হলেও পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত নাজুক। ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরে অবরোধ অব্যাহত রেখেছে।

খবর বেরিয়েছে, আলোচনায় চুক্তি না হলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে বেইত শেমেশের বাসিন্দারা আবারও যুদ্ধের আশঙ্কায় দিন গুনছেন।