গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর দরবার কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তিন আনসার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন গাজীপুর নগরের সামান্তাপুর গ্রামের আফাজ উদ্দিন সরকারের ছেলে রায়হান উদ্দিন সরকার, একই এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে আশরাফুল আলম এবং নগরের নহরীর পাড় এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে শাকিল আহমেদ। তাঁরা সবাই ইয়ুথ লিডারশিপ কোর্সের প্রশিক্ষণার্থী এবং নিজ নিজ এলাকার ভিডিপি দলনেতা ছিলেন।
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার আনসার ও ভিডিপির অ্যাডজুট্যান্ট মাসুদ হাসান বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২০ মে জাতীয় সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রীর দরবার কর্মসূচি বানচাল করার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। চক্রটি ইনস্ট্রাক্টর কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহার করে সংগঠিতভাবে বিভিন্ন দাবিদাওয়া উত্থাপন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে তাদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি অজ্ঞাত ও বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালানো হয়।
গত ১৭ মে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমি, সফিপুরে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রায় ১৭৭ জন সদস্যের মধ্যেও এই চক্র সক্রিয় ছিল বলে এজাহারে বলা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে ভাতা বৃদ্ধি, রেশন-সুবিধা, স্থায়ীকরণ, নিয়োগে অগ্রাধিকারসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দাবি সামনে আনা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা করা হয়।
মামলার বাদী মাসুদ হাসান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সমাবেশকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে কালিয়াকৈর থানায় মামলা করা হয়েছে এবং পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহিদুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে শুক্রবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হলে তাঁরা দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
সূত্র: প্রথম আলো