গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি শনিবার জানান, পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলের তেহরান সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা বিনিময় অব্যাহত রাখা। পাকিস্তান এই আলোচনায় প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, “আমরা এখন একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার পর্যায়ে রয়েছি।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনা প্রসঙ্গে বাকায়ি বলেন, পরিস্থিতি একই সঙ্গে অনেক কাছে এবং অনেক দূরে।
“আমেরিকান পক্ষ বারবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে এবং পরস্পরবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করেছে। তাই এই ধারা বদলে যাবে না — এ বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে পারছি না।”
তবে একই সঙ্গে তিনি আশার কথাও শোনান। তাঁর মতে, আলোচনায় দুই পক্ষের অবস্থান ক্রমশ কাছাকাছি আসছে — কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে নয়, বরং পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানের দিকে।
মুখপাত্র জানান, ইরান চায় প্রথমে ১৪টি অনুচ্ছেদ সম্বলিত একটি সমঝোতা স্মারকে পৌঁছানো হোক। এই স্মারকে থাকবে:
আরোপিত যুদ্ধের অবসানের জন্য জরুরি বিষয়গুলো, ইরানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট মৌলিক ইস্যুসমূহ, মার্কিন নৌ-আগ্রাসনের সমাপ্তি ও আটকে রাখা ইরানি সম্পদ মুক্তির বিষয়।
এরপর ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বাকায়ি স্পষ্টভাবে বলেন, এই জলপথের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নেই।
“উপকূলীয় দেশ হিসেবে ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জানে, এই অঞ্চলে অস্থিরতার কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী কার্যক্রম।”
তিনি আরও বলেন, মুক্ত বাণিজ্য ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তায় আগ্রহী সব দেশের উচিত এই পরিস্থিতি সঠিকভাবে বোঝা।
পারমাণবিক প্রসঙ্গে বাকায়ি বলেন, এই মুহূর্তে পারমাণবিক বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে না।
“ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দুটি আগ্রাসী যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পারমাণবিক আলোচনা চলার সময়ও আমরা অবৈধ হামলার শিকার হয়েছি। তাই এই পর্যায়ে আমরা সবচেয়ে জরুরি বিষয়টিকে — অর্থাৎ লেবাননসহ সকল রণাঙ্গনে যুদ্ধের অবসান — অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”