গাজীপুর কণ্ঠ, খেলা ডেস্ক
গতিময় ও প্রাণবন্ত ফুটবলের প্রদর্শনী ও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ঠাসা এক ম্যাচ। বিশ্বকাপের এই বিশাল মঞ্চে এই ম্যাচকে ঘিরে আগ্রহ হয়তো খুব বেশি ছিল না। কিন্তু এই ম্যাচটিই উপহার দিল এখনও পর্যন্ত আসরের সেরা লড়াইগুলোর একটি। রোমাঞ্চকর ম্যাচে দুই দফায় এগিয়ে গিয়েও জিততে পারল না নিউ জিল্যান্ড। দুই দফায় ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতায় শেষ করল ইরান।
বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপে ২-২ গোলে ড্র হলো ইরান ও নিউ জিল্যান্ডের লড়াই।
নিউ জিল্যান্ডের দুটি গোলই করেন ইলাইজা জাস্ট। ইরানের প্রথম গোলটি করেন ম্যাচজুড়ে দারুণ খেলা রামিন রেজাইয়ান। পরে তার ক্রস থেকেই হেডে গোল করেন মোহাম্মাদ মোহেবি।
প্রতিযোগিতামূলক আসরে এই দুই দলের প্রথম লড়াই ছিল এটি। সবশেষটি ছিল সেই ২০০৩ সালে।
লস অ্যাঞ্জেলসে ম্যাচের প্রথম কয়েক মিনিটে ইরান চেপে নিউ জিল্যান্ডকে। কিন্তু নিউ জিল্যান্ড গোল পেয়ে যায় ম্যাচে তাদের প্রথম আক্রমণেই।
সপ্তম মিনিটে নিউ জিল্যান্ডের অর্ধে থেকে উড়ে আসা বল বুক দিয়ে নামিয়ে ক্রিস উড বাড়িয়ে দেন জাস্টকে। তার কাছ থেকে বল পেয়ে সারপ্রিত সিং আলতো করে চিপ করেন বক্সের মধ্যে। সেখানে উড আবার বুক দিয়ে নামান বল। পাশে থাকা জাস্ট বাঁ পায়ে বল ধরে জায়গা বানিয়ে ডান পায়ের ভলিতে পরাস্ত করেন গোলকিপারকে।
গোল হজম করে হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলতে থাকে ইরান। বক্সের বাঁ পাশ থেকে তারেমি কাটব্যাক করে শট নিলেও লুফে নেন নিউ জিল্যান্ডের গোলকিপার ম্যাক্স ক্রোকোম্ব। ইরানের আরও কয়েকটি আক্রমণ রুখে দেয় নিউ জিল্যান্ডের রক্ষণ।
ইরান হাই-লাইনে খেলতে থাকায় খেলা অনেকটা উন্মুক্ত হয়ে ওঠে ও প্রচুর আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চলতে থাকে।
২৩তম মিনিটে গোলের সুবাস পেয়েও হারায় ইরান। মাঝখান দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে মেহদি তারেমি দূরপাল্লার এক শট নেন। গোলকিপার ক্রোকোম্ব বাঁ দিকে ঝাঁপিয়েও নাগাল পাননি, তবে বল ফিরে আসে ডান পাশে পোস্টে লেগে।
২৮তম মিনিটে বক্সের ভেতরে মার্কো স্টামেনিচের বাঁ পায়ের শট ধরে ফেলেন ইরানের গোলকিপার। পরের মিনিটেই ইরানের সামান গাডুসের ভলি ওপর দিয়ে চলে যায়।
এরপরই সমতা ফেরায় ইরান।
সামান গাদুস চেষ্টা করেন সামনের দিকে শাহরিয়ার মোগানলুকে পাস দেওয়ার, কিন্তু তিনি মাটিতে পড়ে যান। সতর্ক রেজাইয়ান কাছাকাছিই ছিলেন। তিনি ঘুরে গিয়ে ডান পায়ের পাশ দিয়ে বল জালে জড়ান।
পরের সময়টায় কিছুটা ভাটা পড়ে উত্তেজনায়। বলের নিয়ন্ত্রণ যদিও বেশি ছিল নিউ জিল্যান্ডের। ৪৪তম মিনিটে উডের ফ্রি কিক সহজেই ধরে ফেলেন ইরানের গোলকিপার। পরের মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ক্যালাম ম্যাককাউয়াটের শটও ধরে নেন গোলকিপার।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে লম্বা থ্রো থেকে মোগারলুর হেড একটুর জন্য চলে যায় ওপর দিয়ে।
পরের মিনিটে ফ্রি কিক থেকে ইরানের ডিফেন্ডার আলি নেমাতির হেড জালে জড়িয়ে গেলেও তাদের উল্লাস দ্রুতই থেমে যায় সহকারী রেফারির উঁচিয়ে ধরা পতাকায়। অফসাইড!
প্রথমার্ধে গোলে ৯টি শট নিয়ে ৫টি লক্ষ্যে রাখে নিউ জিল্যান্ড। ইরানের ৭টির ২টি ছিল লক্ষে।
৫০তম মিনিটে বুক দিয়ে বল নামিয়ে মোগানলুর বাঁ পায়ের শট ওপর দিয়ে চলে যায়। পাঁচ মিনিট পর আবার উড-জাস্ট জুটির জাদু।
মাঝমাঠ থেকে দারুণ পাল্টা আক্রমণে ওপরে ওঠে নিউ জিল্যান্ড। এরপর উডের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বক্সের ডান প্রান্ত দিয়ে দারুণ গতিতে ছুটে চমৎকার ফিনিশিংয়ে দলকে আরেক দফায় এগিয়ে দেন জাস্ট।
পিছিয়ে পড়ে যেন তেতে ওঠে ইরান। আক্রমণের ধার বেড়ে আরও। সাফল্য আসে।
৬৩তম মিনিটে রেজাইয়ানের দারুণ এক ক্রসে অনেকটা লাফিয়ে নিখুঁত হেডে ইরানকে সমতায় ফেরান মোহেবি। গতিময় হেড পোস্টে গেলে জালে ঢুকে যায়।
শেষ ২০ মিনিটে ইরানের আধিপত্যই ছিল বেশি। বেশ কিছু আক্রমণ করে তারা। কিন্তু সামলে নেন নিউ জিল্যান্ডের রক্ষণ ও গোলকিপার ক্রোকোম্ব।
এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে এ দিন ১-১ ড্রয়ে শেষ হয় বেলজিয়াম ও মিশরের ম্যাচ।