বিশেষ প্রতিনিধি
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) দেশের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত দুই বিজ্ঞানীকে সংবর্ধনা জানিয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. জহুরুল করিম এবং প্রফেসর ড. এম. এ. রহিমকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
গাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (বিপিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জেড. এন. তাহমিদা বেগম, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আবদুল্লাহ মৃধা এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উপাচার্য দুই বিজ্ঞানীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সেকশন অফিসার মো. রনি ইসলাম জানান, প্রফেসর ড. জেড. এ. করিম বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণার অন্যতম পথিকৃৎ। ধানক্ষেতের মাটিতে ফেরিহাইড্রাইট খনিজ শনাক্তকরণ, দেশের প্রথম খরা তীব্রতা মানচিত্র প্রণয়ন এবং উত্তরাঞ্চলের মঙ্গা সমস্যার সমাধানে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর গবেষণার ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদি ধানের জাত উদ্ভাবন এবং দেশের লবণাক্ততার মানচিত্র ও শ্রেণিবিন্যাস প্রণয়ন সম্ভব হয়েছে। এসব অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি আন্তর্জাতিক সেরেস পদকও লাভ করেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. এম. এ. রহিম দেশের ফল গবেষণায় বিশেষ অবদান রেখেছেন। তাঁর নেতৃত্বে ১২৮টি নতুন ফলের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে, যার মধ্যে ‘বিইউ কুল’ বিশেষভাবে জনপ্রিয়। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিইউ জার্মপ্লাজম সেন্টারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। কেন্দ্রটি বর্তমানে দেশের ফল, ঔষধি উদ্ভিদ ও কৃষি-বনায়নের বৃহত্তম সংগ্রহশালা এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জার্মপ্লাজম সংগ্রহকেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত।